নিউজ ডেস্ক: মহামারী করোনাভাইরাসের নতুন ‌‘হট স্পট’ নাটোরে আবারো করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিকসহ একদিনে ৮৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এর মধ্যে ফলোআপ (দ্বিতীয়বার করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ) রয়েছেন তিনজন। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬২৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন অন্তত ২৫২ জন। এছাড়া নাটোরের আরো ৭৩৫টি নমুনা পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে ঢাকা থেকে দুই দফায় ৪২৮ জনের ফলাফলের মধ্যে ৮৬ জনের করোনা আক্রান্তের এই দুঃসংবাদ নাটোরে এসে পৌঁছেছে। এর আগে গত বুধবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবরেটরিতে পাঠানো নমুনা ফেরত পাঠানোর পরে তা পাঠানো হয় ঢাকায়। সেখান থেকে এই ফলাফল এসেছে।

নাটোর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, রাতে ঢাকা থেকে ৮৬ জনের পজেটিভ ফলাফল এসেছে। এদের মধ্যে আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে সদর উপজেলা। শনাক্ত হয়েছে মোট ২৭ জন। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাগাতিপাড়ায় উপজেলা। এই উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ জন। তৃতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত লালপুরে ১২ জন। গুরুদাসপুরে ১০ জন, বড়াইগ্রামে ৯ জন ও সিংড়ার ৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩০ জন। জেলায় সুস্থ হয়েছেন অন্তত ২৫৭ জন। এছাড়া নাটোরের ৭৩৫টি নমুনা পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে।

জানা গেছে, আজকের ফলাফলে করোনা আক্রান্তের শীর্ষে থাকা নাটোর সদর উপজেলায় ২৭ জনের মধ্যে ২ পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তবে অন্যদের বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আজকের ফলাফলে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাগাতিপাড়া উপজেলায় করোনা আক্রান্ত ২৪ জনের মধ্যে ১৮ জন পুলিশ সদস্য ও ৪ জন চাকুরি প্রত্যাশী রয়েছেন। তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগদানের জন্য করোনা মুক্ত সনদ প্রয়োজন হওয়ায় তারা নমুনায় দেয়ায় পজিটিভ হয়েছেন। এছাড়া উপজেলা সমবায় অফিসের একজন কর্মচারী ও একজন বাবুর্চি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে আজকের ফলাফলে তৃতীয় অবস্থানে থাকা লালপুর উপজেলায় একজন ডাক্তার, ৪ জন মেডিকেল স্টার্ফ, একজন শিশু, একজন এসআই, পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও একজন ছাত্রসহ মোট ১২জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে এই উপজেলায় ৭২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন।

এছাড়া আজকের ফলাফলে চতুর্থ অবস্থানে থাকা গুরুদাসপুর উপজেলায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী চিকিৎসক, পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শকসহ ২ পুলিশ সদস্য ও সূর্য্যের হাসি ক্লিনিক এক নারী স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে আজকের ফলাফলে পঞ্চম অবস্থানে থাকা বড়াইগ্রামে সাংবাদিক জাহিদ হাসান ছাড়াও বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্ত্রী, স্বদেশ ক্লিনিক ডাক্তার ওয়ালিউল ইসলাম, ও তার স্ত্রী, মেয়ে, বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্টাফ মোট ৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বড়াইগ্রামে মোট ১২১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে ৩৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়াইগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার রায়।

এছাড়া আজকের ফলাফলে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা সিংড়া উপজেলায় হাট সিংড়া এলাকায় দ্বিতীয় দফায় পজিটিভ হয়েছেন একজন ব্যবসায়ী। এছাড়া অন্য আক্রান্তদের মধ্যে দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত ব্যবসায়ীর স্ত্রী ছাড়াও ঢাকায় অবস্থানকারী দুই চাকুরীজীবি মধ্যে গোডাউনপাড়া এলাকার একজন ও সিংড়া পৌর এলাকার অপরজন ঈদের ছুটিতে বেড়াতে এসে নমুনা দিয়ে করোনা পজিটিভ হয়েছেন।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) কর্তৃপক্ষ নাটোর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরিত নমুনা গ্রহণ করছে না। তারা নাটোর থেকে পাঠানো নমুনা পরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে।

জানা গেছে, সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে রাজশাহী বিভাগের পরীক্ষা শুরু করা হয়। পরবর্তীতে বগুড়া,সিরাজগঞ্জ ও পাবনাতে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়। কিন্তু নাটোরে সংগৃহিত সকল নমুনা রাজশাহীতে পাঠানো হতো। কখনো কখনো রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ সেগুলো ঢাকায় প্রেরণ করতেন। কারণ তাদের সামর্থের চেয়ে বেশী নমুনা সেখানে জমা হচ্ছিল।

এ অবস্থায় গত তিনদিন নাটোরের মাত্র ৩ ও ৫টি নমুনা ছাড়া কোন টেস্ট হয়নি। বৃহস্পতিবার নাটোর থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে নমুনা প্রেরণ করলে তারা সেগুলো গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সকল নমুনা ফিরিয়ে দেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোরের সিভিল সার্জন ডাঃ মিজানুর রহমান জানান, এ অবস্থার কারণে নাটোরে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে কোান পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।