নিউজ ডেস্ক: নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বকুলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর শহরের একটি রেস্তোরায় লালপুর ও বাগাতিপাড়া আওয়ামী লীগের একাংশের আয়োজনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসাহাক আলী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলতাব হোসেন ঝুলফু, বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার রহমান, লালপুরের ওয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, দুড়দুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, দোয়ারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, চংধুপইল ইউপি চেয়ারম্যান আবু আল বেলাল, লালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক পলাশ, আড়বাব ইউপ চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, এবি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার, কদমচিলাম ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা, বাগাতিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান, পাকা ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, দয়ারামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মিঠু, ফাগুয়াড়দিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল এমপি নির্বাচিত হওয়ার দুই মাসের মাথায় বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধেসহোদর ভাইকে প্রার্থী করে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির গ্রহণের বিপক্ষেও কাজ করে চলেছেন। তিনি বর্তমানে মাদকাসক্ত ও অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা সর্বদা পরিবেষ্টিত থাকেন।

আরো বলা হয়, শহিদুল ইসলাম বকুল এমপি হওয়ার পর থেকে দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি আগস্ট মাসজুড়ে দুই উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে সহ-দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত দলীয় সভা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন। সেই অনুষ্ঠানগুলোতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমন কি তারা কিছুই জানেন না। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মূলধারার নেতাকর্মীদেরকে সাংগঠনিকভাবে সমন্বয় না করেই গত ৩১ আগস্ট লালপুরে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান করেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল।

সেই অনুষ্ঠানে শহিদুল ইসলাম বকুল এমপি’র উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সাবেক সংসদ সদস্য ও শহীদ জননেতা মমতাজ উদ্দিনের পুত্র শামিম আহমেদ সাগর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিন্টু প্রমুখ লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলতাব হোসেন ঝুলফু, লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসাহাক আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সর্ম্পকে অশালীন, বানোয়াট, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। এতে করে সংবাদ সম্মেলনকারীদের ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট হয়েছে। এ বিষয়ে লালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, লালপুর ও বাগাতিপাড়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি থেকে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে মাদকসেবীদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফুকে লালপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাগাতিপাড়ার পাঁকা মহাবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ দিয়ে অজ্ঞাত মাদকসেবীদের নিয়োগ দিয়েছেন এমপি বকুল। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও অবৈধ প্রভাব খাটাচ্ছেন তিনি।

এছাড়া এমপি বকুল জামায়াত-বিএনপিকে সুবিধা দিতে এই দুই উপজেলার আওয়ামী লীগের মনোনীত বিজয়ী ইউপি চেয়ারম্যান ওপর প্রভাব খাটাতে অবৈধভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। উপজেলা পরিষদের কাজেও বাধা সৃষ্টি করে চলেছেন। গত ১৩ আগস্ট লালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলীর অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্য বকুল উপস্থিত হয়ে বেআইনিভাবে নিজেই উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা শুরু করেন। উপজেলার বিভিন্ন কমিটিকে বাদ দিয়ে তিনি নিজেই বিভিন্ন তালিকা প্রণয়ন করেন।

আরো অভিযোগ করা হয়, এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল দলের মধ্যে বিএনপি জামায়াত এর লোকজন নিয়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছেন। মাদকসেবীসহ বিক্রেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। তারা এই বিষয়গুলো নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অভিযোগ করেও কোন সুবিচার পাননি। আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এই সকল জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন তারা।

এ সময় আরো বলা হয়, আওয়ামী লীগের আদর্শকে ধারণ করে এতদিন আমরা কিছু বলিনি। কিন্তু অশ্লীল গালিগালাজ বা ব্যক্তিগত মান-সম্মান তুলে কথা বলায় আত্মমর্যাদার কথা ভেবেই আমরা প্রতিবাদ হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

এদিকে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য সকলকে সাথে নিয়েই আমি রাজনীতি করতে চাই। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগস্ট মাসজুড়ে কর্মসূচী নেয়া হয়েছিল। সকল অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে সাংগঠনিকভাবে সমন্বয় করেই অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কেউ যদি অনুষ্ঠানে না আসেন তার জন্যে আমি দায়ী নই। আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি আওয়ামী লীগের সকল অনুষ্ঠানে সকল নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ করে মুজিব আদর্শ ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে আরো বেশি শক্তিশালী করতে উদাত্ত আহবান জানাই।

চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, আমি কোন অনুষ্ঠানে বা কোথায়ও ওই সকল নেতাকর্মীদের ব্যক্তি আক্রমণ বা আশোভন আচরণ করেছি এমন কোন প্রমাণ তারা দিতে পারবেন না। বরং উল্টো তারাই আমাকে নিয়ে নানা ধরণের কটু মন্তব্য করেছেন। যার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।

পাল্টা অভিযোগ তুলে বকুল বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন, তারা দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে অবৈধ আয় করে অভ্যস্থ। উপজেলা দলিল লেখক সমিতি থেকে মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে তারা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। এই সব চাঁদা উত্তোলন বন্ধ করে দেয়ায় তারা গোস্বা হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিত্যাচারে নেমেছেন।