নিউজ ডেস্ক: নাটোরে আরো ৩৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ‌আক্রান্তদের মধ্যে নাটোর সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৯ জন রয়েছেন। এছাড়া বড়াইগ্রাম ও সিংড়া উপজেলায় সাতজন করে রয়েছেন। আর বাগাতিপাড়া উপজেলায় তিনজন ও লালপুর উপজেলায় দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে নাটোর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঈদের পর থেকে গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত ২৩৩টি সংগ্রহ করা নমুনা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৩৮ জন করোনা পজিটিভ ফলাফল এসেছে।

জানা গেছে, নাটোরের শহরের দক্ষিণ বড়গাছা এলাকার চাকুরীজীবী দেলোয়ার হোসেন, সিটি ব্যাংক নাটোর শাখায় কর্মরত হাজরা নাটোর এলাকার মহন কুমার সেন (৩০), শুকুলপট্টির ব্যবসায়ী সুরজিত সরকার (৪০), সুরজিত সরকারের স্ত্রী কাজল সরকার, একই এলাকার গৃহবধূ ইতি সরকার, নাটোর সদর উপজেলার আলিপুরে গ্রামের বগুড়া নার্সিং কলেজে কর্মরত মোঃ আব্দুল বারী সরকার (৬৪) বারী সাহেবের মেয়ে কলেজ ছাত্রী রেহেনা জান্নাত, আলাইপুর এলাকায় বসবাসরত আব্দুর বারী সরকারের আরেক মেয়ে তাঞ্জুমা জান্নাত (২২)।

নাটোর সদর হাসপাতালের সিনিয়র নার্স কান্দিভিটা এলাকার নিলুফা ইয়াসমিন, মোঃ নুরুল ইসলাম (৬০-ঠিকানা নাই), র‌্যাব নাটোর অফিসে কর্মরত আল আমিন (৫৭), সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত বজলুর করিম (৫৪), উত্তরবড়গাছা এলাকার চাকুরিজীবী মনিরুল ইসলাম (৬১)। নাটোর ব্র্যাক অফিসে চাকুরি করেন মোঃ সেলিম মিয়া (৪৪), জেলা ত্রাণ অফিসের গাড়ী চালক মল্লিকহাটি মহল্লার মুকিত হোসেন (৩৫), সুরজিৎ কর্মকার (৩৭-ঠিকানা নাই), এসএম নুরুল ইসলাম (ঠিকানা জানা যায়নি), তেঘরিয়া গ্রামের লিমা (২৪), আলিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী অবিনাশ বসাক, চাঁদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান (৪৪)।

এছাড়া বড়াইগ্রাম এলাকায় করোনা পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন মুশিন্দা গ্রামের হৃদয় মাহমুদ ও জসিম উদ্দিন, বড়াইগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ সাদেকুল ইসলাম, সহকারী নার্স বনপাড়া বাজারের সিভো দাস, একই এলাকার গৃহিনী শাহনাজ বেগম দাইড়পাড়া এলাকার শ্যামল সাহা ও বড়াইগ্রাম থানা সদরের শাহাদৎ হোসেন। বাগাতিপাড়া উপজেলায় বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আব্দুর রাজ্জাক (৫৪) ও রাকিবুল ইসলাম (৩১)।

অপরদিকে সিংড়া উপজেলার কাটাপাথুরিয়া গ্রামের গৃহিনী মাসুমা ফেরদৌসী, একই গ্রামের গৃহবধূ অন্তরা আশরাফি (২৩) অন্তরা আশরাফির স্বামী হাটসিংড়া এলাকার আহসান হাবিব, হাটমুরশন গ্রামের ও লালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত পলাশ চন্দ্র (৩৬), ইসলামী ব্যাংক সিংড়া শাখায় কর্মরত আজিজুল হক (৩১, ছাতারদিঘি গ্রামের চাকুরীজীবী শান্ত শাহ।

নাটোরের সিভিল সার্জন ডাঃ কাজী মিজানুর রহমান জানান, ৩৮ জন আক্রান্তের মধ্যে ২জন ফলোআপ পজিটিভ (আগেই করোনা আক্রান্ত ছিলেন পরে আবার নমুনা পরীক্ষায়ও পজিটিভ)। এখন পর্যন্ত নাটোর জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৬৫ জন। এর মধ্যে করোনা মুক্ত হয়েছেন অন্তত ২৭৬ জন। আর বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৮৯ জন। এছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ ব্যক্তি।

এদিকে নাটোর জেলায় সর্বোচ্চ ২৪২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন সদর উপজেলায়। এছাড়া বড়াইগ্রামে ১২৩ জন, সিংড়ায় ৮৫ জন, গুরুদাসপুরে ৬৯ জন, লালপুরে ৭৪ জন, বাগাতিপাড়ায় ৬৬ জন ও নলডাঙ্গা উপজেলায় ১২ জন শনাক্ত হয়েছেন।

এছাড়া নাটোর জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন অন্তত ২৭৬ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২১ জন, সিংড়া উপজেলায় ৬৭ জন, লালপুর উপজেলায় ৩৬ জন, বাগাতিপাড়া উপজেলায় ২৪ জন, নলডাঙ্গা উপজেলায় ১১ জন, বড়াইগ্রাম উপজেলায় ১০ জন ও গুরুদাসপুর উপজেলায় ৭ জন রয়েছেন।