বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নাটোর সদর উপজেলার ১ নং ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের আত্মীয়ের পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে খাল খনন প্রকল্পের ১৮৪ বস্তা সরকারি গম উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইনসেটে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক সিল মারা ৫০ কেজি ওজনের গমের বস্তা। ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক: নাটোরে ১ নং ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের আত্মীয় কুরবান আলীর একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে খাল খনন প্রকল্পের ১৮৪ (অপর একটি সূত্র জানিয়েছে ১০০) বস্তা সরকারি গম উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের মাঝদীঘা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে কুরবান আলীর বাড়ি থেকে এই গম উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের মাঝদিঘা গ্রামে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা) আওতায় এক কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় ইউপি সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) শাহনাজ বেগমকে প্রকল্প সভাপতি করা হয়। একইসঙ্গে প্রকল্পের বিপরীতে সাড়ে আট মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেন সদর উপজেলা পিআইও অফিস। গত জুন মাসের আগেই এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। চেয়ারম্যান শেখ তোফাজ্জল হোসেন ওই গমগুলো মাঝদিঘা গ্রামের কুরবান আলী নামে তার এক আত্মীয়ের পরিত্যক্ত বাড়িতে মজুদ করে রাখেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে পুলিশ উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের মাঝদিঘা পূর্বপাড়া গ্রামের কুরবান আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। তিনি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের আত্মীয়। এসময় কুরবান আলীর একটি ঘরে মজুত করা অবস্থায় সরকারি ১৮৪ বস্তা গম পাওয়া যায়। কুরবান আলী স্বীকার করেছেন গমগুলো তোফাজ্জল চেয়ারম্যানের। তার বাড়িতে গমগুলো তোফাজ্জল চেয়ারম্যান রেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে নাটোর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ ওমর খৈয়াম জানান, সদর উপজেলার মাঝদিয়া গ্রামে একটি খাল খননের জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় সাড়ে আট মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়। একইসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার শাহনাজ বেগমকে প্রকল্প সভাপতি করা হয়। প্রকল্পের কাজ গত জুন মাসের আগেই সম্পন্ন হওয়ার পর বরাদ্দকৃত গম উত্তোলনের জন্য তাকে ডিউ লেটার দেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের মাঝে গম বিতরণ করেছেন কিনা, তা তার জানা নেই। যেহেতু পুলিশ বরাদ্দকৃত সরকারি গম উদ্ধার করেছেন, সেহেতু বিষয়টির খোঁজ-খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারকে আটক করেছে পুলিশ, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যান তোফাজ্জল সরকারকে আটকের বিষয়টি পুলিশ স্বীকার না করলেও এলাকাবাসী বলেছেন পুলিশের একটা গাড়ীতে করে তাকে নাটোরের দিকে নিয়ে গেছে। তবে সদর থানার ওসি জানান, কাগজপত্র দেখানোর জন্য চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকার ও ইউপি মেম্বার শাহনাজ থানায় রয়েছে। সেগুলো যাচাই বাছাই চলছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য শাহানাজ বেগম ও ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রকল্প সভাপতি কাজ শেষ হওয়ার পর শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে বরাদ্দ পাওয়া গমগুলো শাহনাজ মেম্বার দিয়েছেন কিনা, তা তার জানা নেই। তবে যেহেতু পুলিশ গমগুলো উদ্ধার করেছেন, পুলিশের তদন্তে যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, গম উদ্ধার করা হয়েছে। গমগুলো কার এবং কেন এখানে রাখা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।