নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আয়নাল হক হত্যা মামলার ১৮ বছর পর তোরাব ও শামীম নামে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান সিদ্দিক আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ সময় ১১জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, ২০০২ সালের ২৯ মার্চ বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাজারে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও অস্ত্রের আঘাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আয়নাল হককে হত্যা করা হয়। পরে ডা আয়নাল হকের পুত্রবধু নাজমা রহমান বাদী হয়ে মোট ১৭ জনের হত্যা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে চার আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন। বাঁকী ১৩ জন আসামির মধ্যে দুই জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ও ১১ জনকে খালাস দেন আদালত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, সেই সময় আসামিরা ডাক্তার আয়নাল হককে প্রকাশ্যে হত্যা করে উল্লাস করেছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে আসামিদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে অনেক আসামি আইনের ফাঁক গলে খালাস পেয়ে গেছে। তবে উচ্চ আদালতে আবারো আপিল করবেন বলে জানান তিনি।

রায়ের ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ডা. আয়নাল হকের পুত্র ও বনপাড়া পৌরসভার মেয়র কেএম জাকির হোসেন বলেন, সরাসরি হত্যায় অংশ নেয়া অনেক আসামি খালাস পেয়ে গেছেন। রায় কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না, উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।

তবে আসামিপক্ষের প্রতি অবিচার করা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। এছাড়া আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।