নিউজ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া খাতুনকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মোস্তাক হোসাইন এবং শ্বশুর জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নাটোরের সীমান্ত এলাকা রাজশাহীর বাঘা থেকে প্রধান আসামি মোস্তাককে ও শ্বশুর জাকির হোসেনকে বগুড়ার নন্দীগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

এর আগে নাটোরে চাকুরি করতে চাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া খাতুনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুমাইয়ার শাশুড়ি সৈয়দা মালিকা বেগম (৫০) এবং ননদ জুই খাতুনকে (২৬) গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

এর আগে সোমবার (২২ জুন) নুজহাত সুলতানা বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় সুমাইয়ার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি এবং ননদকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এর আগে সকালে শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুমাইয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

নিহত সুমাইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স পাশ করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির ফলাফল প্রত্যাশী ছিল। এছাড়া শহরের বলারীপাড়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমান যশোরীর মেয়ে সুমাইয়া খাতুন।

সুমাইয়ার মা নুজহাত সুলতানা বলেন, সুমাইয়া মেধাবী ছাত্রী ছিল। সে অনার্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করেছিল। আমার মেয়ে বড় হতে চেয়েছিল। সেটাই তার কাল হলো। মোস্তাক হোসাইন তাকে বাঁচতে দিলো না। আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।

পুলিশ ও নিহত ছাত্রীর পরিবার সুত্রে জানা যায়, নাটোরের হরিশপুর বাগানবাড়ি এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে মোস্তাক হোসাইন নিজেকে বুয়েট পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আমার ভাতিজি সুমাইয়া খাতুনকে গত বছর বিয়ে করে। পরে জানা যায়, ছেলে নাটোরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। বিয়ের পর থেকেই জামাতা মোস্তাক হোসাইন বেকার থাকার কারণে সুমাইয়ার বাবা বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা সিদ্দিকুর রহমান যশোরী তাদের সমুদয় ব্যয়ভার বহন করতেন। সিদ্দিকুর রহমান যশোরীর দেওয়া খরচে মেয়ে সুমাইয়া এবং জামাতা মোস্তাক হোসাইন ঢাকায় বসবাস করতেন। কিন্তু ছয় মাস আগে সিদ্দিকুর রহমান মারা যাবার পর থেকে সুমাইয়ার পরিবার কোনো খরচ দিতে না পারায় সুমাইয়াকে নিয়ে নাটোর সদর উপজেলার হরিশপুর গ্রামে চলে আসে মোস্তাক।

সুমাইয়ার চাচা আহাম্মদ আলী বলেন, মাঝে মধ্যেই সুমাইয়াকে তার শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ এবং স্বামী মিলে নির্যাতন করতো। তার মা নুজহাত সুলতানা স্ট্রোকের রোগী বলে সে মাকে কিছু না জানিয়ে আমাকে বলতো। গত রোববার রাতে তারা সুমাইয়া নির্যাতন করে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সুমাইয়ার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা করা হয়েছে। সুমাইয়ার মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করার পরেই মোস্তাকের মা সৈয়দা মালেকা এবং বোন জুই খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নাটোরর পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ নাটোর শহরের হরিশপুর এলাকার বাড়ি থেকে শাশুড়ি সৈয়দা মালেকা ও ননদ জাকিয়া ইয়াসমিন জুথিকে গ্রেফতার করে। তখন থেকে পলাতক ছিলেন সুমাইয়ার স্বামী মোস্তাক ও শশুড় জাকির হোসেন। আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের আটটি ইউনিট কাজ করে বলে জানান তিনি।