নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ। বিশ্বব্যাপী যখন এই দিবসটি পালিত হচ্ছে তখনো (প্রায় ছয় বছরেও) নাটোরের নিখোঁজ প্রধান শিক্ষক আ ন ম শহিদুল ইসলামের সন্ধান মিলেনি। তিনি শহরতলীর চক আমহাটি এলাকার এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

এর আগে ২০১৪ সালের ২ জুন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। এরপর তার পরিবার ও রাজনৈতিকভাবে অভিযোগ করা হয় ওই শিক্ষককে গুম করার। সেই সময় মানববন্ধনসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

এদিকে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নাটোরের বিএনপি নেতারা প্রধান শিক্ষকের পরিবারকে শান্তনা দিতে গেছেন। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাচ্চুর নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ শহরতলীর আমহাটি এলাকায় নিখোঁজ প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বাসায় যান। নিখোঁজ শিক্ষকের পরিবারকে শান্তনা দিয়ে ভবিষ্যতে সকল গুম হত্যার তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন।

এর আগে প্রধান শিক্ষক আ ন ম শহিদুল ইসলাম ফিরে না আসায় পরের দিন (২০১৪ সালের ৩ জুন) তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। পরে মিলন মিয়াজিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অপহরণের মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু সেই বছরের ৬ জুন দুপুরে ওই শিক্ষক যশোর থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে জানান নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম উদ্দিন। এর দুই ঘণ্টা পর ওসি সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধারের তথ্যটি সঠিক ছিল না।

নাটোর শহরতলীর চক আমহাটি এলাকায় এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে আনম শহিদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ। ২০০৬ সালে জাতিসংঘ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ রচনা করে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এই সনদ কার্যকর হয়। ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। ইংরেজিতে এর নাম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষদের স্মরণে এবং গুমের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতেই দিবসটি পালনের ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ।