নিউজ ডেস্ক: নাটোরে পুনর্নির্মিত শ্রী শ্রী জয়কালী মন্দির উদ্বোধন করেছেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সোয়া এগারোটার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাড়ে তিনশ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত পুনর্নির্মিত শ্রী শ্রী জয়কালী মন্দির উদ্বোধন ও হস্তান্তর করেন ভারত সরকারের পক্ষে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস।

অনুষ্ঠানে সহকারী হাইকমিশনার (রাজশাহী) সঞ্জীব কুমার ভাট্টির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নাটোর পৌরসভার মেয়র ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নাটোর জেলা শাখার সভাপতি উমা চৌধুরী জলি, নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস বলেন, ভারতীয় হাই কমিশন নাটোরের জয়কালী মাতার মন্দিরের সংস্কার কাজে সহায়তা করতে পেরে আনন্দিত। এ মন্দিরটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মন্দির। আমাদের অভিন্ন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে ভারত বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার। যা আমাদের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও জোরদার করে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, নাটোরকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলব। এ উন্নয়নের লক্ষ্যে পথ চলায় ভবিষ্যতেও আমাদের পাশে থাকবে বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারত। সফটওয়্যার শিল্পে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি, তা কাজে লাগিয়ে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ভারত তাদের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো প্রসারিত করবে।

প্রসঙ্গত, ভারত সরকারের হাই ইমপ্যাক্ট কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টস (এইচআইসিডিপি) স্কিমের আওতায় ৯৭ লাখ টাকা অনুদান ও মন্দিরের নিজস্ব ৩৬ লাখ টাকাসহ এক কোটি ৩৩ লাখ টাকাসহ ব্যয়ে এই মন্দির পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর শুরু হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এর কাজ সম্পন্ন হয়। এর আগে ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর জয়কালী মাতার মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

নাটোরের লালবাজারে জয়কালী মন্দিরটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এবং বাংলাদেশের নাটোর জেলার অন্যতম প্রাচীন মন্দির। অষ্টাদশ শতাব্দির শুরুর দিকে এ মন্দির নির্মাণ করেন শ্রী দয়ারাম রায় (১৬৮০–১৭৬০), তিনি ছিলেন দিঘাপতিয়া রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও নাটোরের রানী ভবানীর (১৭১৬–১৭৯৫) প্রভাবশালী দেওয়ান। প্রতিবছর অত্যন্ত উদ্দীপনা এবং উৎসাহের সঙ্গে এ মন্দিরে দুর্গা ও কালীপূজার মতো বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব হয়। মন্দিরের প্রাঙ্গণে শিবমন্দিরও রয়েছে।