নিউজ ডেস্ক: নাটোর শহরের তেবাড়িয়া এলাকায় প্রেমিক-প্রেমিকাকে অপহরণের অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের ডিবির পরিদর্শক আকবর হোসেন তবে অপহরণের মূল হোতা সুমন প্রামাণিক ছেড়ে দেয়া ও মুক্তিপণ দাবিকারী কুরবানকে গ্রেফতার না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে অভিযোগ পেয়ে ডিবি পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ৪ অপহরণকারীকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, শহরের তেবাড়িয়া মহল্লার সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল প্রামাণিকের ছেলে সুমন প্রামাণিক, কুরবান আলীর ছেলে রাব্বিল, শুকুর আলীর ছেলে রাসেল ও আব্দুল মতিনের ছেলে সুমন।

পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার বেগুনি গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের কন্যা আয়েশা (১৭) সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয় সদর উপজেলার মাস্তান মোড় এলাকার আশিক নামের এক তরুণের। তাদের দুজনার মধ্যে অল্প সময়ে ভালোবাসার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে শুক্রবার বিকেলে আয়েশা জয়পুরহাট থেকে নাটোর সদর উপজেলার জংলি রেলগেট এলাকায় প্রেমিক আশিকের সাথে দেখা করতে আসে। প্রেমিক প্রেমিকা সেখানে কথা বলা অবস্থায় স্থানীয় বখাটে ও চিহিৃত ৪ সন্ত্রাসী তাদের অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে পরিত্যাক্ত ইয়াছিনপুর রেলষ্টেশনে নিয়ে যায়। সেখানে মেয়ের অভিভাবকের কাছে মুঠোফোনে দফায় দফায় মুক্তিপণ দাবি করে তারা। এক পর্যায়ে অপহরণকারী রাব্বিলের পিতা পুলিশের সোর্স বলে পরিচিত কুরবান আলী মুঠোফোনে আয়েশার বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে রাতভর দফায় দফায় দেন দরবার চলতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয় ডিবি পুলিশ বিষয়টি জানতে পরে ঘটনার সাথে জড়িত চার অপহরণকারীকে আটক করে এবং অপহৃত তরুণ তরুণীকে উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোরের ডিবির পরিদর্শক আকবর হোসেন জানান,এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এখনো মামলা দায়ের হয়নি।

এদিকে অপহরণের সাথে জড়িত রাব্বিলের বাবা পুলিশের সোর্স কুরবান আলী অপহৃতদের পরিবারের নিকট থেকে মুক্তিপণ চাওয়ার পরও তাকে গ্রেফতার না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।