নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরে স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের প্রিয়ভাজন যুবলীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তুলে নিয়ে যাওয়ার ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও জামিল হোসেন মিলনের সন্ধান মেলেনি। মিলনের সন্ধান দাবিতে নাটোরে রাজপথে নেমে এসেছে স্থানীয়রা। উত্তাল নাটোরের রাজপথ। সবার মুখে একই প্রশ্ন অপহৃত মিলনকে পাওয়া যাবে তো?

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নাটোর প্রেসক্লাবের সামনে নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগের প্রস্তাবিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিলনের সন্ধান দাবিতে মানববন্ধন পরবর্তী সমাবেশে সুস্থ অবস্থান মিলনকে ফিরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনের নিকট দাবি জানান আওয়ামী লীগ, ছাত্র ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেও কথিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নামে অপহরণ মেনে নিতে পারছেন না দলের নেতাকর্মীরা।

সরকারদলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, যুবলীগ নেতা জামিল হোসেন মিলনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার নাটোর শহরে চাপা আতংকের সাথে সাথে থমথমে পরিবেশও বিরাজ করছে। বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে। অনেকেই অজানা শংকায় ভুগছেন অনেকেই। ক্ষমতাসীন দলের অনেকের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে দু’দিন ধরে মিলন সমর্থকসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীরা রাজপথে কর্মসূচী পালন করা করলেও কোন হদিস মিলছে না।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, মিলন অপরাধ করে থাকলে আইন ছিল তার বিচার করার জন্য। একজন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চাওয়া প্রার্থী, যার নাম অন্যদের মতো দলের হাইকমান্ডে পৌছে গেছে মনোনয়নের জন্য, হঠাৎ তার অপহরণ নাটোরের রাজনীতিতে অস্বস্তি যোগ করেছে।

হরিশপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম কালিয়া বলেন, ‘সরকার ও প্রশাসন আমাদের। যদি আমাদেরই অপহরণ করা হয় তবে ক্ষমতাসীন দলে থেকে কি লাভ? দল ক্ষমতায় থেকে দলেরই কেউ কেউ হারিয়ে যাবে, এটা মানা হবে না। বিএনপি জামাতের সময় অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। মিলনকে ফিরিয়ে দেয়া না হলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র।’

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘নাটোরের মানুষ আতংকিত। মিলন এমন কিছু করেনি যে রাতের আধারে তাকে তুলে নিয়ে যাবে। মিলনকে সুস্থ অবস্থায় আমরা ফেরত চাই।’

সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ডাবলু বলেন, ‘আমরা বিস্বাস করতে চাই আমরা নিরাপদ। আইনের চোখে কেউ অপরাধী হলে আইন দ্বারাই তার বিচার হোক, অপহরণ করে নয়। মিলন রাজপথের পরীক্ষিত নেতা, তাকে আমরা ফেরত চাই।’

জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিপ্লব বলেন, ‘প্রশাসন মিলন অপহরণের কোন কিনারা করতে পারছে না। প্রশাসন ধৈর্য ধরতে বললেও আমরা আর পারছি না। সরকারের সংস্থাগুলো চাইলেই তাকে খুঁজে বের করতে পারেন। তাদের স্বদিচ্ছা স্পষ্ট নয়। আমরা সম্মান রেখে প্রশাসনকে বলতে চাই, আমাদের ধৈর্য হারানোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য করবেন না।’

জেলা আওয়ামীলীগ দপ্তর সম্পাদক দীলিপ কুমার দাস বলেন, ‘আমরা যারা সুস্থ ধারার রাজনীতি করি তারা শংকিত, আতঙ্কিত। মিলন কোন অপরাধ করলে তার বিচার আইনেই করা যেত। রাতের অন্ধকারে মিলনকে কে নিয়েছে, কেন নিয়েছে জানি না। আমরা তাকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত পেতে চাই।’

জেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্তুজা আলী বাবলু বলেন, ‘সরকার ও প্রশাসন আমাদের। আমরা বিশ্বাস করতে চাই আমরা নিরাপদ। আইনের চোখে কেউ অপরাধী হলে আইন দ্বারাই তার বিচার হোক। নাটোরে সাংসদ শিমুলের নেতৃত্বে মাদক সন্ত্রাস নির্মূল হয়েছে, তবে কেন শান্তির নাটোরে মিলন নিখোঁজ হলো? মিলন জনপ্রিয় ছিলেন যার প্রমাণ সর্বস্তরের মানুষ তার সন্ধান দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছে। তাকে সুস্থ অবস্থায় আমরা ফেরত চাই।

এদিকে নাটোর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি বাস চলচল বন্ধ করে দেয়ার পর দুপুর থেকে বাস চলাচল শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে মালিক সমিতি সভাপতির লক্ষণ পোদ্দার জানান, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা জামিল হোসেন মিলন নিখোঁজের ঘটনায় তার সমর্থকেরা শুক্রবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সড়ক-মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ করে। শনিবার পুনরায় অবরোধের হুমকি দেয়। এ অবস্থায় যানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে মালিক-শ্রমিকরা সকাল ৬টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ধীরে ধীরে বাস চলাচল শুরু হয়।