নিউজ ডেস্ক: নাটোরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ নতুন করে আরো ২৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের সবাই নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত দুইজনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ফলাফল এসেছে।

অন্যদিকে জেলায় আরো চারজন ফলোআপ (আগেই করোনা আক্রান্ত ছিলেন, পরে আবার নমুনা পরীক্ষায়ও পজিটিভ) রোগীও পজিটিভ বলে শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৭১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন অন্তত ৪৪০ জন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আজ মোট ৭৬টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। এর মধ্যে ৪টি ফলোআপসহ ২৮টি পজিটিভ রিপোর্ট রয়েছে।

এর মধ্যে সদ্য মৃত্যূবরণকারী কানাইখালী এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ীর নমুনায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। এছাড়া মৃত্যুর পর আরো এক নারীর করোনা পজিটিভ ফলাফল এসেছে।

এছাড়া ১ বছরের শিশু সন্তানসহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন নাটোর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেহেনা মজুমদার মুক্তি ও তার স্বামী রাজশাহী সরকারি কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক পারভেজ রানা। এছাড়া তাদের ভাগ্নি মারিয়া খাতুনও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে বলাড়িপাড়ায় বসবাসকারী বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক প্রকৌশলী রয়েছেন করোনা আক্রান্তের তালিকায়। এছাড়া জেলা খাদ্য বিভাগের এক কর্মচারিও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অপর দিকে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাতনী ইউনিয়নের এক ব্যবসায়ীর নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ফলাফলে এসেছে।

এছাড়া নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্তের তালিকায় একই উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের ক্ষুদ্র এক ব্যবসায়ীও রয়েছেন।

অন্যদিকে বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক, এসআই সাইফুল ইসলাম, এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান ও কনস্টেবল আশরাফুল ইসলামের ফলোআপ (আগেই করোনা আক্রান্ত ছিলেন, পরে আবার নমুনা পরীক্ষায়ও পজিটিভ) পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ফলাফল এসেছে।

করোনা আক্রান্তরা হলেন, নাটোর ডিসি অফিসে কর্মরত সহকারী কমিশনার, হাজরা নাটোর এলাকায় বসবাসরত রেহেনা মজুমদার মুক্তি, একই পরিবারের ফারিয়া খাতুন, পারভেজ রানা ও মেহেরা জান্নাত, ডিসি অফিসের অফিস সহায়ক ধলাট গ্রামের মিলন সরকার, নাটোর শহরের কানাইখালী এলাকার কাশিনাথ সাহা, ছাতনী এলাকার আবু বকর, হাড়িগাছা এলাকার আয়শা বেগম, শিবপুর ছাতনীর ব্যবসায়ী আবু বকর, লালপুরের ধুপইলের মাহাবুব আলী, ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি পাবনার ঈশ্বরদীর নাফিউল ইসলাম খান, বনপাড়ার কাওছার নাহার মীম, নলডাঙ্গার দুর্লভপুর গ্রামের তপন প্রমুখ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোরের সিভিল সার্জন ডাঃ কাজী মিজানুর রহমান জানান, আক্রান্ত একজন ছাড়া অন্য সবাই নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। তারা ভাল আছেন। তাদের পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।