নিউজ ডেস্ক: নাটোরের সদর উপজেলার নারায়ণপাড়া বাবুরপুকুর এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সন্তানের সামনে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে নারায়ণ পাড়া বাবুর পুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্ত্রীর নাম শিল্পী বেগম (৩৩)। অভিযুক্ত স্বামীর নাম মো. মনির হোসেন (৩৫) এবং একই এলাকার বাহার উদ্দিনের মেয়ে। তাদের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মৌমিতা ৮ম শ্রেণীর এবং ছোট মেয়ে মহিমা ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নারায়নপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম ঢাকায় চাকরি করতো । কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে সে বাড়িতে আসে । এরপর থেকে স্ত্রী শিল্পীর সাথে পারিবারিক বিষয়ে মনো মালিন্য দেখা দেয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কলহ লেগেই থাকতো। গতকাল সোমবার রাতে কলহের এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মনিরুল ইসরাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিল্পীকে উপুর্যপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

এ সময় শিল্পীর সন্তানদের আর্ত চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসে এবং মুমুর্ষ অবস্থায় শিল্পীকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিল্পীকে মৃত ঘোষণা করেন।

বড় মেয়ে মৌমিতা জানায়, তার বাবা একজন ভবঘুরে প্রকৃতির। প্রায় সময়ই বেকার থাকেন। বাড়িতে থাকেন না। বলেন ঢাকাতে কাজ করেন। মাঝে মধ্যেই কোথা থেকে এসে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া-ঝাটি বাধিয়ে বসেন। সোমবার রাতের ওই ঘটনার কদিন আগে তার বাবা বাড়িতে আসেন।

তার বর্ণনা মতে, ঘটনার রাতে আমি পাশেই নানার বাড়িতে ছিলাম। রাতে গ্রামে মানুষের কোলাহলে ঘুম ভেঙ্গে গেলে শুনতে পাই- বাবা মাকে মেরেছে। তবে মাকে যে বাবা মেরে ফেলেছে তা জেনেছি সকালে। মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। ওই রাতে মহিমা ছিল বাবা-মার কাছে।

১১ বছরের মেয়ে মহিমার বর্ণনায়, রাতে বাবা আমার মাকে ঘরের বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মায়ের গোঙানি আর চিৎকার শুনতে পাই। বাবা যে মাকে মারছে তা বুঝতে পারছি। কিন্তু একদম মেরে ফেলবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।