নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরে চাঁদা না দেয়ায় ককটেল দিয়ে এক এক ব্যক্তিকে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের হাতে এক সহযোগীসহ আটক হয়েছে এমরান শেখ (৩০) নামের একজন সাংবাদিক। সে দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার নাটোর প্রতিনিধি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাকে পেশাদার সাংবাদিকরা চিনে না বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। নাটোর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী জালাল উদ্দীন আহমেদ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (৬ মার্চ) রাতে তাদের একডালা থেকে আটক করা হয়।এমরান শেখ নাটোর সদরের একডালা নারায়নপুর বাবুর পুকুরপাড় এলাকার আলাউদ্দীন শেখের ছেলে। একই সময় এমরানের সহযোগী আব্দুল্লাহ আল মবিন আকাশকে আটক করেছে পুলিশ। আকাশ পার্শ্ববর্তী লোচনগড় এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এমরান দীর্ঘদিন ধরে তার কয়েকজন সহযোগীসহ বনবেলঘড়িয়া, একডালা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চাঁদাবাজি ও ফিটিং বাণিজ্য করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে একডালার স্থানীয় হোটেল কর্মচারী হাসান আলীর বাড়ির রান্নাঘরে ৩টি ককটেল রেখে নাটোর থানায় খবর দেয়।

বিষয়টি জেনে ঘটনাস্থলে গেলে হাসান আলী ও আশপাশের লোকজন জানায়, সাংবাদিক এমরান দীর্ঘদিন ধরে পুলিশি হয়রানির হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে হাসান আলীর বাড়িতে ককটেল রেখে তাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়দের বক্তব্য শুনে পুলিশ সহযোগীসহ সাংবাদিক এমরানকে আটক করে।

এদিকে একজন নিরপরাধ মানুষকে শুধু সাংবাদিকের কথায় হয়রানি না করায় নাটোর থানার অফিসার ইনচার্জকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এব্যাপারে নাটোরের একাধিক সাংবাদিক নেতা জানিয়েছেন, সাংবাদিক পরিচয় দানকারী চাঁদাবাজ ইমরানকে তারা কেউ চেনেন না। এই ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

নাটোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী জালাল উদ্দীন আহমেদ জানান, অভিযুক্ত সাংবাদিক তাকে ফোনে ককটেল উদ্ধারের বিষয়টি জানালে তার কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ঘরে ওই সাংবাদিক এমরান ককটেল রেখেছে।

ওসি কাজী জালাল উদ্দীন আহমেদ আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সাংবাদিক এমরান স্বীকারও করেছে এসব কথা। এখন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।