নিউজ ডেস্ক: কয়েক দিন আগে ‘টক অব দ্যা নাটোর’ হয়েছিল ফিটিং শাহিন। সেদিন পর্যটকদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছিল এই যুবক। সেই ফিটিং শাহিনকে আবারো গণধোলাই দিয়েছে জনতা।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নাটোর শহরের শেফা ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে। এবারের ঘটনা ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি। ফিটিং শাহীন আলম শহরতলির ফুলবাগান উলুপুর এলাকার গোলাম হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে সম্প্রতি শেফা ক্লিনিকে অপ্রশিক্ষিত ডাক্তার দ্বারা এক মহিলাকে একদিনে তিনবার সিজার করায়। এ কারণে মহিলাটি অল্পের জন্য বেঁচে যান। তবে তার জরায়ু কেটে ফেলে। এছাড়া ওই মহিলার বাচ্চাটাও মারা যায়। এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ করে ভুক্তভোগীর পরিবার। আর এই সুযোগ নিয়ে শেফা ক্লিনিকে হুমকি-দামকি দিয়ে চাঁদা দাবি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছে ফিটিং শাহিন।

এদিকে রোগীর স্বামী জাকির হোসেন জানান, নাটোর শহরের শেফা ক্লিনিকের নামে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপচিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে আমার স্ত্রীর সিজার করতে গিয়ে অপ্রশিক্ষিত ডাক্তারের কারণে জরায়ু কেটে ফেলা হয়। পেটেই মারা যায় বাচ্চাটিও। এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে নাটোর সদর থানায়।

এসময় ফিটিং শাহীন আলম বলেন, আমি কিছু করিনি। শেফা ক্লিনিকে অপচিকিৎসার প্রতিবাদ করায় আমাকে ক্লিনিক মালিকের ভাড়া করা লোকজন মারপিট করেছে।

চাঁদাবাজির বিষয়টি নিশ্চিত করে শেফা ক্লিনিকের অন্যতম পরিচালক পলাশ জানান, শাহীন গতকাল (শনিবার) থেকে মোবাইলে চাঁদা চাচ্ছিল। আজ (রোববার) দুপুরে সে ক্লিনিকে এসে চাঁদা দাবি করে। এসময় স্থানীয় ছেলেরা বিষয়টি বুঝতে পারে তাকে আটকের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে শাহীন দৌঁড়ে পালানোর সময় জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে।

এ ব্যাপারে নাটোর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি।

এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলেও তাকে আটক না করে ছেড়ে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

এর আগে গত ১৭ জুলাই ১১ টার দিকে রাজশাহী মহানগরের লক্ষ্মীপুর ভাটোপাড়া যুবসংঘের ১৪ সদস্য ৭টি মোটরসাইকেলে উত্তরা গণভবনের সামনে দিয়ে নলডাঙ্গা উপজেলার হালতিবিলে যাচ্ছিলেন। এসময় বহরের পেছনে একাকী থাকা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ জামিল দিপনের মোটরসাইকেলটি গতিরোধ করে শাহীন। সে নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জামিলের ব্যাগ তল্লাসী শুরু করে। এ সময় শাহীন তার কাছে থাকা ইয়াবা জামিলের ব্যাগে ঢুকিয়ে দেয়। জামিল ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অন্যদের ফোন দেয়। অন্যরা ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ৯৯৯-এ কল করে। পরে নাটোর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহীনকে আটক করে। পরে জেল থেকে দ্রুততার সাথে বের হয়েই স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় আবার অপকর্ম শুরু করেছে।

শাহিনকে বের করার পেছনে কোন শক্তি আছে, কিন্তু কে তার আশ্রয়দাতা, কে তার প্রশ্রয়দাতা, প্রশ্ন সচেতন মহলের, আজ আবার চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয় ফিটিং শাহিন, এ সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায় কোন এক এসপি স্যার কে তার নিজ নাম্বার থেকে ফোন দিয়েছেন। এ সময়ে তাকে সেই নাম্বার থেকে ছেড়ে দেওয়ার অথবা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সচেতন মহল ও সাধারণ নাগরিকদের প্রশ্ন- কার ছিল সেই নাম্বার? পুলিশ প্রশাসনের নাকি রাজনৈতিক কোনো রাঘব বোয়ালের?

এ প্রসঙ্গে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ফোনে তার সঙ্গে শাহিন নামে কেউ কথা বলেনি। তাছাড়া বিষয়টি আমি নাটোর সদর থানা থেকে জেনেছি। কেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মামলা দিবে না সে বিষয়টিতেই খতিয়ে দেখতে বলেছি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে। এবং ফিটিং শাহীনকে আটক করে তার ফোন থেকে কার কাছে ফোন দিয়েছিল বা সহায়তা চেয়েছিল সেটা খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।