নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোর উত্তরা গণভবনে জন্ম নেওয়ার একদিন পর হরিণ শাবক শুক্লা মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক মোহম্মদ শাহরিয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে চিড়িয়াখানা দেখভাল করার কর্মচারীরা খাঁচার ভেতরে শাবকটিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি গণভবনের উর্দ্ধতন কর্মকতাকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক মোহম্মদ শাহরিয়াজ জানান, প্রথমবারের মতো উত্তরা গণভবণে কোনো প্রাণের আগমনে সবাই খুশি ছিল। কিন্তু শাবকটি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানতে পারেন শুক্লা মারা গেছে। ময়নাতদন্ত করে শাবকটির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পরে হরিণ শাবকটির মরদেহ ময়নাতদন্ত করে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. রাজ্জাকুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বেলাল হোসেন ও নেজারত শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির মুন্সি।

হরিণ শাবকের ময়নাতদন্ত করা চিকিৎসক সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেলিম উদ্দিন জানান, হরিণ শাবক শুক্লা জন্মগ্রহণ করার পর থেকে তার মা শাবককে তার দুধ খেতে দেয়নি। এরপর তাকে বিকল্পভাবে দুধ খাওয়ানো হয়। শাবক জন্মের পর তারা মা তাকে কাছে না নেওয়ায় শাবকটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বেলাল হোসেন জানান, কোন আঘাত জনিত কারণে নয়, ঠাণ্ডাজনিত কারণে ও জন্মের পর মায়ের দুধ না পাওয়ার কারণে শাবকটির মৃত্যু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে হরিণী শ্যামার গর্ভে জন্ম নেয় শুক্লা। জেলা প্রশাসক মোহম্মদ শাহরিয়াজ শাবকটির নামকরণ করেন শুক্লা। বুধবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) শাবকটি দেখতে গণভবনের হরিণশালায় ভিড় করে প্রচুর দর্শণার্থী। এসময় অনেকেই শাবকটি নিয়ে অতিরিক্ত টানা হেঁচড়া করেন।

এছাড়া বাচ্চা প্রসবের পর পরই মানুষের অতিরিক্ত সংস্পর্শই বাচ্চাটিকে অসুস্থ্য করে তুলতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। তাছাড়া পরিচর্যায় থাকা ব্যক্তিরা কেউ এ বিষয়ে অভিজ্ঞ না হওয়ায় শাবকটির সঠিক যত্ন নিতে পারেনি। এখানে দায়িত্বরতদের প্রাণীদের যত্ন নেয়ার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন নাটোরবাসী।