নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেছেন দ্বিতীয়বারের মত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া জুনাইদ আহমেদ পলক। শনিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে নাটোর সার্কিট হাউজে এসে তিনি এই মতবিনিময় করেন। পলক তার বক্তব্যে নাটোরের উন্নয়নে পরবর্তী করণীয় বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

নাটোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রশাসন, সাংবাদিক ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া মাদক,সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি মুক্ত সমাজ গড়তেও তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বর্তমান সরকারকে বিগত দশ বছরের উন্নয়নের ধাররাবিহকতার আলোকে পুনরায় জনগণ তাদের সেবার দায়িত্ব দিয়েছে। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্নীতি হ্রাসের জন্য সারাদেশে দ্রুতগতিতে প্রযুক্তির বিস্তার ও ব্যবহার নিশ্চিত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রামকে শহরে পরিণত করতে হলে প্রযুক্তির প্রসার অনিবার্য। সরকার সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে আগামী দিনের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের পথ সুগম করা হয়েছে। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো সকলের জন্য নিশ্চিত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আরও আগে প্রযুক্তিগত দিকে সমৃদ্ধ হতো। কিন্তু বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য দেশ বিনামূল্যের সাবমেরিন কেবল সংযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেন গঠনের পাশাপাশি প্রযুক্তি বিস্তারে পদক্ষেপ নেন। ফলে বিগত দশ বছরে দেশে শত বছরের উন্নয়ন হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর তিনি নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো আমাদের প্রত্যেকটি সরকারি দফতর এবং প্রত্যেকটি সেবামূলক যেসব কাজ রয়েছে সেগুলোকে ডিজিটালাইজ করার।’

‘আইসিটি ডিভিশন, এটুআই মিলে দুই হাজার ৯০০ সেবাকে তালিকাবদ্ধ করেছে, যেগুলোকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটালাইজ করা হবে।’

এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে দেড় হাজার সার্ভিসকে ডিজিটালাইজ করা হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়াজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য মহিদুল ইসলাম বকুল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান খাঁন, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজ্জাকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।