নিউজ ডেস্ক: নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মঞ্জুরুল ইসলাম বিমলের পরিবর্তে বিএনপির অধ্যক্ষ কামরুননাহার শিরিনকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এর ফলে ধানের শীষ প্রতীক ফিরে পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের সহধর্মিনী অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার শিরীন।

বৃহষ্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে রিট দায়েরের পর দুপুরে সেটি নিষ্পত্তি করে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের একটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়েরের প্রেক্ষিতে বিচারপতি জেড এ এম হাসান এ আদেশ দেন। ফলে আসনটি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন কামরুন্নাহার শিরীন।

এর আগে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের চমক দেখিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম বিমল শেষ মূহুর্তে মনোনয়ন পান। এলাকাতেও তিনি বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশা না থাকায় তিনি ঐক্যফ্রন্টের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

মনজুরুল ইসলাম ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত উপজেলা যুবদলের সভাপতি এবং ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের সঙ্গে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে তাঁকে সংগঠন থেকে বাদ দেওয়া হয়। তিনি ১৯৯৬ সালে লালপুরের তৎকালীন গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। পরে গোপালপুর পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর ২০০০, ২০০৫ ও ২০১০ সালে মেয়র নির্বাচিত হন। সম্প্রতি তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদান করেন।

গত রোববার (৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিএনপির প্রার্থী কামরুন্নাহার নাটোরে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তর করেন। এরই ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের একক প্রার্থী হিসেবে ‘ধানের শীষ’ নিয়ে নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়া হয় মনজুরুল ইসলামকে। বাদ দেওয়া হয় কামরুন্নাহারের চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র।

এদিকে শেষ মুহূর্তে মনজুরুল ইসলাম ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে লালপুর-বাগাতিপাড়ার বিএনপি শিবিরে আনন্দের ঝড় ওঠে। বিশেষ করে বিএনপির যে অংশটি এত দিন পটল (ফজলুর রহমান) বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিল, তারা এ খবরে মিষ্টি বিতরণ শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের দিন এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুন্নাহার শিরিনের পরিবর্তে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম বিমলকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এমন সিদ্ধান্তে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেসময় তারা লালপুর-ইশ্বরদী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করে। পরিস্থিতি শান্ত করতে ঢাকা থেকে নাটোরে ছুটে এসে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে কর্মীদের প্রতি অনুরোধ করেন কামরুন্নাহার শিরীন।