নিউজ ডেস্ক: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরীর যে কল রেকর্ডটি শোনা যাচ্ছে তা শতভাগ সত্য।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনারা নিক্সন মহোদয়ের যে কল রেকর্ডটি শুনছেন তা শতভাগ সত্য। এমনকি প্রকাশিত কল রেকর্ডের দাঁড়ি-কমা পর্যন্ত সঠিক। এখানে এডিট করার কোনো প্রশ্নই নেই। আপনারা যা শুনেছেন তিনি ওভাবেই আমার সঙ্গে কথা বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, তিনি যখন (মজিবুর রহমান চৌধুরী) এসিল্যান্ডকে হুমকি দেন, তখন আমি তার নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি তাৎক্ষণিক লিখিতভাবে ডিসি স্যারকে অবগত করি এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের অডিও ক্লিপটি প্রেরণ করি।

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোনে গালিগালাজের যে অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটি বানোয়াট। এটা আমার কণ্ঠ না। আমার বক্তব্যকে ‘সুপার এডিট’ করা হয়েছে। এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

এর আগে গত শনিবার অনুষ্ঠিত চরভদ্রাসন উপজেলার উপনির্বাচনে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতুল সরকারকে হুমকি ও চরভদ্রাসনের ইউএনওর ফোনে ফোন করে উপজেলার এসিল্যান্ডকে গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সনের বিরুদ্ধে।

ইতোমধ্যে এই দুটি ঘটনার ভিডিও এবং অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ফরিদপুর জেলা শাখা রোববার সভা করে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়েছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই ঘটনায় নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন) আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবেও বলে জানান তিনি।

এর আগে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নিক্সন চৌধুরীর আশোভন আচরণের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে।