নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, ‘নেক্সট আইসিটি ডেস্টিনেশন হলো বাংলাদেশ, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়ন, প্রত্যেকটি ইঞ্চি মাটি ডিজিটাল হাইস্পিড কানেক্টিভিটির আওতায় আমরা ইনশা আল্লাহ নিয়ে আসব।’

শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি ) সকালে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনের এক অভিজাত হোটেলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘তড়িৎ, কম্পিউটার কৌশল ও যোগাযোগ-প্রযুক্তিবিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। দেশি-বিদেশি ৩০০ জন কম্পিউটার প্রকৌশলী, অ্যাকাডেমিশিয়ান, বিজ্ঞানী ও পরিকল্পনাকারী আন্তর্জাতিক এ বিজ্ঞান সম্মেলনে অংশ নেন।

জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আগামীতে বিশ্বে আইসিটি সেক্টরে লিজেন্ড হবে বাংলাদেশ। সে লক্ষ্যে ২০২১ সালকে টার্গেট করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সময় এসেছে মেধাভিত্তিক অর্থনীতির উপরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘নেক্সট আইসিটি লিডার কারা হবে? নেক্সট আইসিটি ডেস্টিনেশন কোথায়? আমরা বলছি, নেক্সট আইসিটি ডেস্টিনেশন হলো বাংলাদেশ। ২০২১ সালে আমরা কোথায় যাব তার একটা টার্গেট আমরা নিয়েছি এবং সেই টার্গেটকে সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এখন সময় এসেছে মেধাভিত্তিক অর্থনীতির উপরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আজ থেকে ১০ বছর আগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো ৫৬ লাখ, এখন ৯ কোটি ৬০ লাখ। আমাদের গভর্নমেন্টে কোনো ডিজিটাল সার্ভিসই ছিল না। এখন মোটামোটি প্রায় ৫০০ সার্ভিস আমরা করেছি।’

আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে জানিয়ে জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থান বলে তেমন কিছুই ছিল না। এখন প্রায় ১০ লাখ ছেলেমেয়ে কাজ করছে, ছয় লাখ ফ্রি-ল্যান্সার এবং আরো অন্যান্য সফওয়্যার, হার্ডওয়্যার ডিজিটাল ডিভাইস ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে কাজ করছে।’

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি এলাকা ডিজিটাল হাইস্পিড কানেক্টিভিটির আওতায় নিয়ে আসা হবে জানিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাম পর্যন্ত চলে গেছে। আমাদের প্রায় তিন হাজার ৮০০টি ইউনিয়নে আমরা ফাইবার অপটিক ক্যাবল, হাইস্পিড ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি পৌঁছে দিয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়ন, প্রত্যেকটি ইঞ্চি মাটি ডিজিটাল হাইস্পিড কানেক্টিভিটির আওতায় আমরা ইনশা আল্লাহ নিয়ে আসব।’

টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মশিউল হকের সভাপতিত্বে এই সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, চুয়েটের উপচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, আইইইই বাংলাদেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ প্রমুখ।