নিউজ ডেস্ক: গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে তিন মাস আটকিয়ে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আসাদুজ্জামানকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১ গাজীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে এবং আসামির দেওয়া তথ্যমতে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার ধলাদিয়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ রুম হতে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার আসামি র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে র‌্যাব জানায়। গ্রেফতার আসামির স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। এ ব্যাপারে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। গ্রেফতার আসাদুজ্জামান খুলনা জেলার কসবা থানার উত্তর বেতকাশি গ্রামের মো. মোবারক আলীর ছেলে। তিনি শ্রীপুরের ধলাদিয়া এলাকার রাজ্জাক মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-১ গাজীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মেয়েটি গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার দক্ষিণ সালনা এলাকার ভাড়াটিয়া এক হতদরিদ্র পরিবারের। গাজীপুরের শ্রীপুর থানার ধলাদিয়া মাদ্রাসার ওই শিক্ষক কম খরচে তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর কথা বলেন। তিনি ভিকটিমের পরিবারকে ফুসলিয়ে ভিকটিমকে গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ সালনা হতে শ্রীপুরের ধলাদিয়া এলাকায় নিয়ে যান।

তিনি আরো জানান, মাদ্রাসার শিক্ষক ভিকটিমকে গাজীপুরের শ্রীপুরের ধলাদিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি না করে গত ২ আগস্ট ওই এলাকার একটি গোপন কক্ষে ভিকটিমকে বন্দি রাখেন। পরে দিনের পর দিন ভিকটিম ও তার বাবার জীবননাশের হুমকি দিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করেন। সেইসঙ্গে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন।

আব্দুল্লাহ আল মামুন আরো জানান, বিভিন্ন সময় ভিকটিমের বাবা ওই মাদ্রাসার শিক্ষকের মোবাইল ফোনে কল করে তার মেয়ের খোঁজখবর জানতে চাইতেন। তখন তার মেয়ে ভালো আছে এবং লেখাপড়া নিয়ে অনেক ব্যস্ত আছে বলে জানাতেন ওই শিক্ষক। এভাবে প্রায় ৩ মাস অতিবাহিত হলে ভিকটিমের বাবার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং তিনি তার মেয়েকে দেখার জন্য ধলাদিয়া মহিলা মাদ্রাসায় যান।

খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, মাদ্রাসায় তার মেয়েকে ভর্তি না করিয়ে ওই শিক্ষক তার মেয়েকে ধলাদিয়া এলাকার একটি গোপন কক্ষে বন্দি করে রেখেছেন। তার জীবননাশের হুমকি দিয়ে দিনের পর দিন মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছেন।

তিনি আরো জানান, মেয়ের এই সংবাদ প্রাপ্তির ভিত্তিতে ভিকটিমের বাবা তার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য র‌্যাব-১, গাজীপুর কার্যালয়ে এসে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে আইনগত সাহায্য কামনা করেন। গত ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন মাদ্রাসার ছাত্রী ধর্ষণে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান গাজীপুরের সালনা এলাকায় অবস্থান করছেন।

পরে গাজীপুর সদর থানার দক্ষিণ সালনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এ সময় আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয় এবং গ্রেফতার আসামির দেওয়া তথ্যমতে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার ধলাদিয়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ রুম হতে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেফতার আসামি র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে র‌্যাব জানায়। গ্রেফতার আসামির স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। এ ব্যাপারে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন।