নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। সবাই, আমি কাউকে বাদ দিতে পারবো না। সেজন্য হয়তো আমরা এটা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। তবে সামনে শীত, পরিস্থিতি আরেকটু হয়তো খারাপের দিকে যেতে পারে। তবুও আমাদের এখন থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান নেওয়ার সময় এ নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুদান নেন।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস এর ৩৪টি ব্যাংক, ফরেইন অফিসার্স স্পাউজ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, মিনিস্টার গ্রুপ, খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন।

তিনি আরো বলেন, সবাই সুস্থ থাকেন এটাই আমরা চাই। দোয়া করেন দেশটা যাতে এই করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে মুক্তি পায়। সারাবিশ্বই যাতে মুক্তি পায়। মানুষের সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে এই করোনা ভাইরাসের কারণে।

শেখ হাসিনা বলেন, তবুও বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। তার জন্য যা যা দরকার সেটা আমরা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা জনগণের জন্য কাজ করবো এটাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরো বলেন, যেকোনো সময় একটা কিছু হলেই কোনো দুযোগ, দুর্বিপাক যা কিছু হোক এমনকি মুজিববর্ষে সবসময় আপনারা এগিয়ে এসেছেন। নিজেরা এগিয়ে এসেছেন তাই আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে হবে। আর আসলে প্রাইভেটে ব্যাংকটা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরাই নিয়েছিলাম, আমরা দিয়েছি সব থেকে বেশি। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষ যাতে ব্যাংকিং ব্যবহারে অভ্যস্ত হয় তার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। এমনকি কৃষকদের ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। অর্থাৎ মানুষকে অভ্যস্ত করা, যাতে ব্যাংকের মাধ্যমে তারা যেন তাদের আর্থিক লেনদেন করতে পারে সেই পদক্ষেপও আমরা নিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যত বেশি প্রাইভেট ব্যাংক দিয়েছি, এতে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান হয়েছে। অনেক মানুষের চাকরি হয়েছে। এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। আর আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হয়েছে। সেখানে ব্যাংকগুলো যাতে ভালোভাবে চলে আমরা সেটাই চাই। সেক্ষেত্রে ব্যাংকের আইন বা যা কিছুই আমরা করি, আপনারা যখন যে দাবিটাবি আনেন, যেটা যুক্তিসঙ্গত সেটা আমরা সবসময়ই বিবেচনা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল সাহেব যে কথাগুলো বলেছেন- আমি সেটা দেখবো। যদি সেখানে সমস্যা থাকে তবে সেখানে যাতে সমস্যা না হয় তা আমরা অবশ্যই বিবেচনা করবো। আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে ব্যাংকটা যেন ভালোভাবে চলে সেদিকে আপনারা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন।

তিনি আরো বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক আছে অতি দুর্বল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে অনেক সময় মার্জ করাতে হয়। সেটা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। কোনটা ঠিকমতো চালাতে পারছে কিনা? সেগুলো বিবেচনা করেই করা হবে। অবিবেচনা করে কিছুই করা হবে না এইটুকু ভরসা রাখবেন।