নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বিতীয়বারের মত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া জুনায়েদ আহমেদ পলক মোটরসাইকেলে করে প্রথম দিন আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে নিজ দপ্তরে কাজে যোগ দেন। তবে প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালকের মাথায় হেলমেট থাকলেও তার হেলমেট ছিল না।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর তিনি নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের জন্য দপ্তরে যান। এদিন নিজের ফেরিফাইড ফেসবুক পেজে দুটি ছবি পোস্ট করে পলক লিখেন, `বাইকে চড়ে প্রথম দিন অফিসে।’ এর পর থেকে শুরু হয় নানাজনের নানারকম কমেন্টস। দেখতে দেখতে দেড় হাজারের বেশি শেয়ার হয়ে যায়, এছাড়া তিন হাজারের বেশি কমেন্টস করে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। পাঠকদের সুবিধার্থে কিছু কমেন্টস দেয়া হলো:

Kafayet Shakil নামের একজন লিখেছেন, মন্ত্রী মহোদয় আপনি তারুণ্যের অহঙ্কার। আপনাকে তরুণরা ফলো করে। আপনার মাথায় হেলমেটবিহীন এ ছবি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে হেলমেটবিহীন বাইকে আরোহনের সংস্কৃতি ছড়িয়ে যেতে পারে। অনুগ্রহ করে আপনার এই ভালো উদ্যোগের সাথে হেলমেট ব্যবহার করে আরো একটি ভালোকাজ করবেন বলে আশা রাখি।

Sahadat Russell নামের একজন লিখেছেন, চাটুকার দাসেরা যাই বলুক। সত্য যে হেলমেট না পড়ে আপনি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছেন। আপনার ক্ষমা চাওয়া উচিত। আর পরবর্তীতে অভিনয় শেখায় আরো মনোযোগী হোন। শুভকামনা।

Sajjad Mahmood Khan Rizvi নামের একজন লিখেছেন, স্যার আপনি নিজেই তো আইন মানছেন না। হেলমেট ছাড়া বাইরে বের হলে বাইকাররা পায় মামলা আর আপনি মন্ত্রী হয়ে করেন তামাশা। এসব সস্তা পাব্লিসিটি না করে আইন মেনে সবাইকে উতসাহ দিন….!

Kylian Mbappe নামের একজন লিখেছেন, হেলম্যাট পড়েন আর নাই বা পড়েন আপনার ব্যাপার।কিন্তু কথা হলো ছবি খান তুললো কে?এই একটা ছবি তুলতে কতক্ষন ট্রাফিক সার্জেন্ট কে সিগন্যাল রাখতে হয়েছে।

Shahariatul Islam নামের একজন লিখেছেন, ভাইয়া একটা কথা। অন্যভাবে নিবেন না প্লিজ। প্রথমত, আপনাকে রাইডার হেলমেট অফার করেনি বা পিলিওনের জন্য তার কাছে এক্সট্রা হেলমেট ছিল না- একথা গুলো বলে পার পাওয়া যাবে না। আপনি আজ মন্ত্রী বলে বিনা হেলমেটে বাইকে করে অফিসে যেতে পেরেছেন আর পুলিশও আপনাকে কিছু বলেনি। নিয়ম সবার জন্যই এক হওয়া দরকার। দ্বিতীয়ত, মানুষ যাতে কিছু বলতে না পারে সে জন্য আপনি তৃতীয় ছবিটিতে একটা হেলমেট পরা ছবি দিয়েছেন, যেখানে না আপনার চেহারা দেখা যাচ্ছে, না বোঝা যাচ্ছে যে এটা আপনিই। সবচেয়ে বড় কথা, প্রথম দুটি ছবিতে আপনি ডিসকভার বাইকে, কিন্তু শেষের ছবিতে সেটা কি করে পালছার হয়ে গেলো ঠিক বুঝলাম না। ভুল আমরা সবাই করি, তাইতো আমরা মানুষ। কিন্তু আরো একটই গুণও দরকার মানুষ হওয়ার জন্য, সেটা হচ্ছে ভুল স্বীকার করার সাহস।

Md Mehedi Hasan Rasel নামের একজন লিখেছেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আপনার গাড়ী থাকতে আপনি বাইকে গিয়ে বড় কোন কাজ করেছেন এটা তেমন কোন ঘটনা নয়। আপনার আসল কাজ হল ইন্টারনেটের গতি কতটুকু বাড়িয়েছেন?
মূল্য কত কমিয়েছেন?
তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে সব প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নিতে পেরেছেন?
ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার সুগম করতে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন এই বিষয়গুলো কি একটু দেখবেন?
আপনি পজেটিভ রাজনীতি করেন, আপনাকে আমরা ভালবাসি আশাকরি আপনিও আমাদের ভালবাসার মূল্য একদিন বাইকে অফিসে এসে ফেসবুকে দিয়ে ফলাও করে প্রচার করে হিট না হয়ে কাজের মাধ্যমে হিট হবেন এটাই প্রত্যাশা। যেমন আমাদের মমতাময়ী নেত্রী মহান হয়েছেন কাজ করে দক্ষতা দিয়ে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ডিসেম্বরের ভোটে নাটোর-৩ আসন থেকে বিএনপির দাউদার রহমানকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন পলক। সদ্য বিলুপ্ত সরকারের মতোই তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন। এর আগে পলক প্রথম সংসদ সদস্য হন ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে। এবার মিলে টানা তিন বার তিনি সংসদ সদস্য হলেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে কর্মযজ্ঞ চলছে তা এগিয়ে নিতে কাজ করছেন তিনি।