নিউজ ডেস্ক: পাবনার বেড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আনাম সিদ্দিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বেড়া পৌরসভা মেয়র মো. আব্দুল বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর পাবনার বেড়া উপজেলা পরিষদের অক্টোবরের মাসিক সভা চলাকালীন উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুল বাতেন বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

পাবনার জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন মতে, তার এমন শিষ্টাচারবহির্ভূত ও বেআইনি কর্মকাণ্ড অসদাচরণের শামিল এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। তাই ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯’ অনুযায়ী মেয়রের পদ থেকে আব্দুল বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, বেড়া পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন উপজেলার কাজিরহাট ও নগরবাড়ী ঘাট ইজারা সংক্রান্ত একটি লিখিত রেজুলেশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুমোদনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি নীতিমালাবহির্ভূত হওয়ায় ইউএনও তা অনুমোদনে অস্বীকৃতি জানালে মেয়র বাতেন তাকে গালিগালাজ করেন।

একপর্যায়ে চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধাক্কা দিয়ে মারতে উদ্যত হলে সভায় উপস্থিত অন্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিক জানান, গতকাল (সোমবার) উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।

তিনি আরো বলেন, সকালে ওই সভায় বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী এবং কাজিরহাট ঘাট নিয়ে পৌরসভা মেয়র মো. আব্দুল বাতেন এমন কিছু প্রস্তাব দেন যা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে মেয়র আমার উপর চড়াও হন এবং মারতে উদ্যত হন। এ সময় সভায় উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারা তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ সোমবার বলেন, আমরা এ ব্যাপারে সরকারের ঊর্দ্ধতন মহলে জানিয়েছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে মেয়র আব্দুল বাতেন জানান, এই অভিযোগ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন তার প্রস্তাবনা গ্রাহ্য না হওয়ায় তিনি নিজে মিটিং থেকে বেরিয়ে এসেছেন। কোন লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেনি।