নিউজ ডেস্ক: রাজশাহীর পুঠিয়ায় শ্যালিকা ইভা খাতুন (১৩)কে ধর্ষণে অভিযুক্ত এখলাস উদ্দীন (২০) র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)’র সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুঠিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে পুঠিয়ার পীরগাছা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এখলাসের কাছে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ওয়ান শুটারগান ও ৪৮০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে।এখলাস পুঠিয়ার গণ্ডগোহালী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)’র দাবি, নিহত এখলাস উদ্দীন শ্যালিকা ইভা খাতুনকে (১৩) ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচণা মামলার আসামি। এছাড়া সে মাদক ব্যবসায়ীও ছিলেন।

জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি দুলাভাই এখলাসের বাড়িতে বেড়াতে যায় পুঠিয়া বাজারের বাসিন্দা সেলিম উদ্দীনের মেয়ে ইভা খাতুন। ওই রাতেইে এখলাস তাকে ধর্ষণ করেন। পরে ইভা বাবার বাড়ি চলে আসে। গত ২ এপ্রিল বড় বোন শোভা বাবার বাড়িতে বেড়াতে এলে বোনের মন খারাপের কারণ জানতে চায়। এ সময় ইভা বোনকে সব খুলে বলে। শোভা বিষয়টি স্বামী এখলাসের কাছে জানতে চাইলে তাকে উল্টো তালাকের ভয় দেখানো হয়। এ নিয়ে গ্রামে সালিশও হয়। এর দুইদিন পর গত ৯ এপ্রিল ইভা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় ইভার বাবা জামাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সে সময় থেকে মামলার প্রধান আসামি এখলাস আলী এবং তার বাবা আবুল কাশেম পলাতক ছিলেন।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)’র সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুঠিয়ার পীরগাছা গ্রাম থেকে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এখলাসকে আটক করার চেষ্টা করলে সে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে এখলাস গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুঠিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম জানান, এখলাসের বিরুদ্ধে শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ রয়েছে।