নিউজ ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় শতাধিক ডিম নিক্ষেপ করেছে ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী কফিল উদ্দিনের সমর্থকেরা। এই হামলার ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের বাসার সামনে কয়েক’শ নেতাকর্মী সমবেত হয়ে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। এ সময় কফিল উদ্দিনকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো না সেই বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার সমর্থকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা শুক্রবার বিকেলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসার সামনে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুলের বাসায় ইট-পাটকেল ও ডিম নিক্ষেপ করা হয়। তবে বিএনপি এ ঘটনায় সরকারের মদদ রয়েছে বলে দাবি করলো।

এর আগে ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থী বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে যুবদলের ঢাকা মহানগর সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার বিকেলে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাহাঙ্গীরের নাম ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই আসনে ৯ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার দিনে এসএম জাহাঙ্গীর ও এম কফিল উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সেদিন দুই পক্ষের ১৭ জন নেতাকর্মী আহত হন।

মির্জা ফখরুলের বাসায় ডিম ছুড়ে মারার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, এ ঘটনায় মহাসচিব খুব মর্মাহত হয়েছেন। নেতাকর্মীদের কিছু বলার থাকলে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বলতে পারতেন। তিনি একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো অনাকাঙ্ক্ষিত।

এ ব্যাপারে কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি জানি না কারা সেখানে বিক্ষোভ করেছেন, কারা ডিম-পাথর ছুড়েছেন। আমি আমার ফ্যাক্টরিতে গিয়েছিলাম। তখন মহাসচিব আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি বলেছি, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরাস্থ বাসভবনে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল বহিরাগত ব্যক্তি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বাসার ক্ষতিসাধন করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সন্ধ্যায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভা এই ঘটনার পেছনে সরকারি মদদ রয়েছে বলে মনে করে। বর্তমানে সারাদেশে গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনের যে মহামারি চলছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতেই সরকারের এজেন্টরা এ হামলা চালিয়েছে। সভা এই অনাকাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।