আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি সরকারের কট্টর সমালোচক প্রখ্যাত সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার দেড় মাসের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো বেরিয়ে এসেছে তার মরদেহ টুকরো করার ছবি। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘আল সুরা’ ছবিগুলো প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি এগুলোই খাশোগির লাশ টুকরো করার সময়কার।

সংবাদ সংস্থাটি বলছে, তারা এ ছবিগুলো তুরস্কের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পেয়েছেন। তবে তাদের হাতে থাকা ওই ছবিগুলো এখনও বিশ্বাসযোগ্য কোন সূত্রের দ্বারা যাচাই করা হয়নি।

তাদের কাছে থাকা ছবিগুলোতে একজন ব্যক্তিকে বিশেষ করাত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও পাতানো একটি বিছানায় রক্তমাখা প্লাস্টিকের কাগজ দেখা যায়। এর পাশেই দেখা যায় ময়লা রাখার একটি বড় পত্র।

তারা বলছে, খাশোগিকে হত্যায় অংশ নিয়েছিল সৌদি আরবের পাঠানো ১৫ সদস্যের কিলিং স্কোয়াড। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে তা নিশ্চিহ্ন করতে এসিডের মাধ্যমে গলিয়ে ফেলে।

সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ে খবর দিয়েছে যে, খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান।

চলতি বছরের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে ব্যক্তিগত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন খাশোগি। হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে আমেরিকায় বসবাসরত খাশোগি ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত কলাম লিখতেন।

খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার পর রিয়াদ প্রথমে অস্বীকার করে তারা এ ব্যাপারে কিছু্ই জানে না। কিন্তু চাপে পড়ে ঘটনার সপ্তাহখানেক পর সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হন খাশোগিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ খাশোগি হত্যায় জড়িত ১১ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেন। এদের মধ্যে পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

প্রসঙ্গত, এর আগে সাংবাদিক খাশোগি হত্যার অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছিল। ওই অডিওতে কয়েক ব্যক্তির কথোপকথন শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়। খাশোগি কনস্যুলেটে প্রবেশের সময় তার বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিসের কাছে তার ফোন রেখে গিয়েছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তরা ফোনের ভেতর ওই অডিও রেকর্ডিংগুলো পেয়েছেন।

নিউইয়র্ক পোস্টের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি সাবাহতে বলা হয়, জামাল খাশোগি ঘড়ির রেকর্ডার চালু করার ফলে সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন এবং হত্যার মুহূর্তের অডিও রেকর্ড তার ফোন এবং আইক্লাউড উভয় জায়গায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে গেছে।