নিউজ ডেস্ক: বেড়ানোর কথা বলে ভাতিজা মনিরুজ্জামানকে (১৬) অপহরণ করেছে আপন চাচা সম্রাট হোসেন। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চাচা সম্রাট হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বগুড়ার ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে সম্রাটকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মনিরুজ্জামানের বাবা তসলিম মণ্ডল বাদী হয়ে সম্রাট, জাকারিয়া ও রুহুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে পুলিশ সম্রাটকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন। ধুনট উপজেলার জয়শিং গ্রামের তসলিম মণ্ডলের ছেলে মনিরুজ্জামান। আর অপহরণকারী সম্রাট হোসেন জয়শিং গ্রামের মিন্টু মণ্ডলের ছেলে। তারা এলাকায় সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়ার ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার বর্মন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে বগুড়ার ধুনট উপজেলার সোনাহাটা বাজারে বেড়ানোর কথা বলে মনিরুজ্জামানকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান চাচা সম্রাট। চাচা-ভাতিজা মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘুরতে ঘুরতে একই এলাকায় এলাঙ্গী গ্রামের ফাঁকা মাঠের ভেতর রাস্তায় পৌঁছে।

অপহরণকারীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন সম্রাটের মামাতো ভাই রাঙ্গামাটি গ্রামের জাকারিয়া (২২) ও রুহুল (২০)। পরে এ অবস্থায় রাত সাড়ে ৭টার দিকে মোবাইল ফোন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মনিরুজ্জামানের বাবাকে ফোন করে ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এছাড়া দুই ঘণ্টার মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন অপহরণকারীরা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না পেয়ে অপহরণকারীরা মনিরুজ্জামানকে মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে মনিরুজ্জামান কৌশলে অপহরণকারীদের হাত থেকে সটকে পড়ে এলাঙ্গী গ্রামের আমজাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সংবাদ পেয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় মনিরুজ্জামানকে উদ্ধার এবং সম্রাটকে আটক করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়ার ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার বর্মন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।