তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। (পুরনো ছবি}

বিশেষ প্রতিবেদক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনকে জীবনে ধারন করতে হবে। তিনি শৈশব থেকে মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে কাজ করেছেন। বৃষ্টিতে নিজে ভিজে বন্ধুকে ছাতা দান, ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করেছেন। বঙ্গবন্ধু একদিনে ৩৬ হাজার প্রাইমারী স্কুলকে সরকারি করেছিলেন। কৃষকদের জমি দান করেছিলেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৪ টায় নাটোরের সিংড়া পৌরসভার সরকার পাড়া টিবিএম কলেজে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জুনাইদ আহমেদ আরো পলক বলেন, ফাঁসির কাষ্ঠে গিয়ে দেশ ও জনগণকে বঙ্গবন্ধু ভুলে যাননি। সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছিলেন, কিন্তু হায়েনারা তা হতে দেয়নি। তিনি যদি ১০ বছর দেশ চালাতেন তাহলে দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারতেন। বাংলাদেশ আরো উন্নত হতো। কিন্তু তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। ৯ মাস বাংলাদেশকে হানাদাররা ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয় দেশকে ধংস্ব করার চক্রান্ত করেছিলো তারা। দীর্ঘ ৩৭ বছর যারা দেশকে শোষন করেছে তারা উন্নয়ন করেনি। অতিথি পাখির মত তারা এসেছে এবং জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে।

পলক আরো বলেন, ১৯৯৯ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা সিংড়াকে পৌরসভা উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছর বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে, কিন্তু তারা উন্নয়ন না করে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে। বিগত সাড়ে ৪ বছরে আওয়ামী লীগের মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।

নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য পলক বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের জনগণকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত অনুসারী যারা তারাও কর্মে জনগণের সেবক। সিংড়া পৌরসভা সচ্ছতার সাথে পরিচালনা হচ্ছে, কোনো অনিয়ম নাই, দুর্নীতি মুক্ত পৌরসভা গঠন করেছেন মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস। করোনার দুঃসময়ে সে পৌরবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী পলক আরো বলেন, ১২ বছর আপনাদের সেবক হয়ে পাশে আছি। তিন তিনবার আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মন্ত্রী করেছেন। কিন্তু আমি পলক, পলক হিসেবেই থাকতে ভালোবাসি। পদ-পদবী একদিন থাকবে না। জনগণের ভালোবাসা আমার অর্জন। মন্ত্রী হলেও আপনাদের সাথে আমার কোনো বিভেদ তৈরি করিনি।
জনগণের ভালোবাসাই আমার শক্তি, আমার সাহস।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন আসলে একটি মহল অপপ্রচার করে, অপপ্রচারে কান দিবেন না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মসজিদে আযান বন্ধ হবে, মাথায় টুপি থাকবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মসজিদের আযান বন্ধ হয়নি, মাথায় টুপি কারো খুলতে হয়নি। আগামীতে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না, ইনশাল্লাহ।

৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ওহিদুর রহমান শেখ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক রকি, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি বিশ্বনাথ দাস কাশিনাথ। এছাড়া প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব জান্নাতুল ফেরদৌস।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বকুল এর পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন গোল-ই-আফরোজ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি সজিব ইসলাম জুয়েল, পৌর সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমাম, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাইদুর রহমান সৈকত, পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহাবুব আলম বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি শাহজাহান আলীর পুত্র সরফরাজ নেওয়াজ বাবু প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামিমা হক রোজি, কলম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনুল হক চুনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম বুলবুল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপাল বিহারী দাস, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া মিঠু, জেলা পরিষদ সদস্য রায়হান কবির টিটু, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আঞ্জুমানসহ কাউন্সিলরবৃন্দ ও সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় মোনাজাত পরিচালনা করেন পৌর ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা ইদ্রীস আলী সুমন।

কৃতজ্ঞতা: রাজু আহমেদ