বিশেষ প্রতিবেদক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, ৭৫ এর পর আওয়ামী লীগকে নিয়ে অপপ্রচার করা হতো। নৌকায় ভোট দিলে ইসলাম থাকবে না, মসজিদে আযান হবে না, দেশ ভারত হয়ে যাবে বলে অপপ্রচার করা হতো। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খাঁটি মুসলমান ছিলেন। তিনি ইজতেমায় জমি দান করেছিলেন। কওমী মাদ্রাসা বোর্ড গঠন করেছিলেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সুকাশ ইউনিয়নের বামিহাল রহমত ইকবাল অনার্স কলেজ মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু দুঃখী মানুষের বন্ধু ছিলেন। বাংলাদেশের সকল মানুষকে তিনি ভালোবাসতেন। ১৫ আগষ্টের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর মুখেও আপোষ করেননি। সাহসিকতা, সততা এবং আদর্শের কাছে সারাবিশ্ব স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল। শোকাবহ আগস্ট মাসে শোককে শক্তিতে পরিনত করতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।

নৌকার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তারা আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে মন্তব্য করে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ষড়যন্ত্রের কাছে আমরা মাথানত করবো না, করিনি । বিগত দিনে সিংড়া উন্নয়ন হয়নি, মিথ্যা প্রতিশ্রতি দেয়া হয়েছে। জনগনকে ধোঁকা দেয়া হয়েছে। বিগত ১২ বছরে আমরা সিংড়া উপজেলার অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন করেছি।

তিনি আরো বলেন, আজ যেখানে প্রোগ্রাম হচ্ছে, রহমত ইকবাল অনার্স কলেজ, অত্র এলাকায় শেখ হাসিনা সরকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। সুকাশের বামিহাল মাদ্রাসা, কাকিয়ান মাদ্রাসা, নিশ্চিন্তপুর, দুর্গাপুর স্কুল, কালভার্ট, সেতুসহ সকল উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অবদান।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জোট সরকারের সময় সুকাশে ভয়াবহ অবস্থা ছিলো, মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারেনি। দিনে দুপুরে ডাকাতি হয়েছে। অন্যায় প্রতিবাদ করার সাহস মানুষের ছিলো না। মানুষ বিচার পেত না। রক্ত নিয়ে মানুষের হোলি খেলা হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, হামলা, মামলা, খুন হত্যা করে মানুষের জীবন কে দুর্বিসহ করা হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে মানুষ শান্তিতে ঘুমায়।

পলক আরো বলেন, বামিহালে ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের সময় পুলিশ ফাঁড়ি লুট করা হয়েছিলো। আনসার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। সে দুঃসময় এখন আর নাই। বর্তমান সরকার মানুষকে উন্নয়ন ও সুশাসন উপহার দিয়েছিলেন। ৩৭ বছর সিংড়া উপজেলা ছিলো বিএনপির ঘাঁটি। এখন নৌকার ঘাঁটিতে পরিনত হয়েছে।

সুকাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হালিম মোঃ হাসমতের পরিচালনায় শোক সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ওহিদুর রহমান শেখ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও চৌগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম ভোলা, যুগ্ন সম্পাদক ও ইটালী ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ, যুগ্ন সম্পাদক ও তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শেরকোল ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল, সুকাশ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, ডাহিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম মৃধা, কলম ইউপি চেয়ারম্যান মঈনুল হক চুনু, চামারী ইউপি চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম মৃধা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামিমা হক রোজি প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ রাজু আহমেদ নাজিম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন, সুকাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফরিদুল ইসলাম, সদস্য সুলতান আহমেদ প্রমুখ। এছাড়া দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল বারী রশিদী।

কৃতজ্ঞতা: রাজু আহমেদ