নিউজ ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষকে অকৃত্রিম ভালোবাসতেন। এজন্য তিনি অল্প সময়ের মধ্য বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির জনক হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালির আদর্শ। তাঁর আদর্শকে হত্যা করা যাবে না।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটায় উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ ওহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জিল্লুর রহমান, কলম ইউপি চেয়ারম্যান মঈনুল হক চুনু, চামারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম মৃধা প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিনসহ ১২ টি ইউনিয়ন ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সভা পরিচালনা করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন।মোনাজাত পরিচালনা করেন পৌর ওলামালীগের সভাপতি মাওলানা ইদ্রীস আলী।

সভায় জুনাইদ আহমেদ পলক আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট খুনী জিয়ার নির্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর ২১ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি থেকে দেশের স্বাধীনতার চেতনা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করেছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারে কোন ঊদ্যোগ নেয়নি। বরং ঘৃণিত ইনডেমনিটি এক্টের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিচার হয়েছে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। আমাদের ও তাঁর আদর্শের অনুপ্রাণিত হতে হবে। দেশকে সত্যিকার অর্থে তাঁর মত ভালোবাসতে হবে। তবেই তাঁর আদর্শের স্বার্থকতা। তাঁর আদর্শের মরণ নাই। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, তাঁর আদর্শ বেঁচে থাকবে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা ভয় পান না, তারা নিজের জীবন বাজি রেখে দেশকে ভালোবেসে মানুষকে সেবা দেন। ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী সেবা দিতে গিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে রোল মডেলে পরিনত করেছি। এখন চলছে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তৃতীয় অর্থনৈতিক বিপ্লব। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করতে আমরা প্রস্তুত। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অঙ্গীকার বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, মানবিক সহায়তা নিয়ে আমরা মানুষের পাশে আছি, কেউ না খেয়ে থাকবে না। সে লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা তৎপর রয়েছে। আমরা কাউকে না খেয়ে থাকতে দিবো না। করোনাভাইরাস এবং বন্যার দুর্যোগে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা জনগণের পাশে আছে, থাকবে ইনশাআল্লাহ। যতদিন বন্যা থাকবে ততদিন বন্যার্ত মানুষের পাশে প্রতিটি মুজিব সৈনিক অতন্দ্র প্রহরীর মত খোঁজ নিবেন। প্রয়োজনীয় সহায়তা দিবেন।

কৃতজ্ঞতা: রাজু আহমেদ