নিউজ ডেস্ক: নাটোরের গুরুদাসপুরে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী তিন বন্ধু (প্রবীর কুমার বর্মন, নির্মল কুমার ও অশোক কুমার) ৪৫ বছর পর প্রথমবারের সন্মাননা স্বারক দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে পৌর আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারের মুক্ত মঞ্চে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোক সভা, দোয়া মাহফিল ও সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে তিন বন্ধুকে সন্মাননা স্বারক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

গুরুদাসপুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহনেওয়াজ মোল্লা তিন বন্ধুর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। একই সময়ে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদ সদস্য সরকার মেহেদী হাসানও আলাদাভাবে সন্মাননা স্বারক তুলে দেন। সম্মাননা প্রদানের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত দলের নেতা কর্মীরা হাত তুলে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।

গুরুদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল বারী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মোল্লা প্রমুখ।

প্রমঙ্গত, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব পরিবারে হত্যার প্রতিবাদ করায় নাটোরের গুরুদাসপুরে তিন বন্ধুকে দুই বছরের ডিটেনশন ও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচার বাস্তবায়ন হওয়া।

তবে মুজিব হত্যার ৪৪ বছর কেটে গেলেও তাদের কেউ খোঁজ রাখেনি। মাঝে মধ্যে মন্ত্রী এমপি আমলারা নির্যাতিত তিন বন্ধুর ভাগ্যোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তারা কিছুই পাননি। অথচ তারাই উত্তরবঙ্গের মধ্যে প্রথম জীবনবাজি রেখে মুজিব হত্যার বিচার চেয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। বিনিময়ে পেয়েছেন কষ্ট, লাঞ্চনা আর ভৎসনা।

তৎকালীন ছাত্রলীগের ঘনিষ্ঠ এই তিন বন্ধু প্রবীর কুমার বর্মন (৬৬), নির্মল কর্মকার (৬৩) ও অশোক কুমার পালকে (৬৬) ১৯৭৫ সালে “রক্তের বদলে রক্ত চাই, মুজিব হত্যার বিচার চাই” স্লোগানে পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণ করার অপরাধে আটক করে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল। তাদের পরিবারকেও রাখা হয়েছিল হুমকির মুখে। টানা ২৯ মাস কারাভোগের পর ১৯৭৭ সালে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া মহল্লায় পরিবার পরিজন নিয়ে ওই তিন বন্ধুর বসবাস।