নিউজ ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ওরিক্স বায়োটেক যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, সেখানেও ২০০০ কর্মসংস্থান হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ওরিক্স বায়োটেক। বিনিয়োগ সংক্রান্ত ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতি বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, ওরিক্স বায়োটেকের চেয়ারম্যান কাজী শাকিল ও সামিট টেকনোপলিশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ আরো পলক বলেন, কালিয়াকৈরে অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি’ দেশের প্রথম ও বৃহত্তম হাইটেক পার্ক। ২০১৪ সালে আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ সরেজমিনে এই পার্কটি পরিদর্শন করে পার্কের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জানান, ৩৫৫ একর জমিতে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি’-তে বর্তমানে ৩৭টি কোম্পানিকে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে ৫টি কোম্পানি উৎপাদন শুরু করেছে।

তিনি আরো জানান, কোম্পানিগুলো এই পার্কে মোবাইল ফোন এসেম্বলিং ও উৎপাদন, অপটিকাল কেবল, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ডেটাসেন্টার প্রভৃতি উচ্চ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে। ইতোমধ্যে ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ করোনা মোকাবেলায় যে ভূমিকা রেখেছে তা দেশের সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে বিভাগটি। লাইভ করোনা টেস্ট, কোভিড-১৯ ট্র্যাকার, টেলি-মেডিসিন ও টেলিহেলথ, সহযোদ্ধা-প্লাজমা প্লাটফর্ম ইত্যাদি বহু উদ্যোগের সুফল পেয়েছে দেশবাসী। এর থেকেই একটি দেশের আইসিটি খাতের অগ্রগতির চিত্র সুস্পষ্ট।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে ওরিক্স বায়োটেক। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ পাবে। একই সঙ্গে প্রায় ২০০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বায়োপ্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়ে যাবে দেশ।

প্রাথমিকভাবে ওরিক্স বায়োটেক ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি দিয়ে ওরিক্স বায়োটেক বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে বছরে ১২০০ টন প্লাজমা বিশ্লেষণে সক্ষম প্ল্যান্ট নির্মাণ করতে চায়, যার সাথে ২০টি প্লাজমা সংগ্রহ স্টেশন সংযুক্ত থাকবে।

প্রতিষ্ঠানটি এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য উন্নত বিশ্বের মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে বায়োটেক পণ্য সহজলভ্য হবে।