বিশেষ প্রতিবেদক: নাটোরের বড়াইগ্রামের মোবারক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে দিকে এসপির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান এসপি লিটন কুমার সাহা।

তিনি জানান, চতুর্ভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে খুন হয়েছেন মোবারক হোসেন। ১৫ জুন বিকেলে উপজেলার ইকোরী বিলে গরু চড়াতে গেলে তার তিন বন্ধু রশিদ জিহাদ, আসাদুল এবং প্রেমিকা আরিফা মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পুলিশ ওই দিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর ১৬ জুন নিহতের স্ত্রী রানী বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দাখিল করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

ঘটনার পারিপার্শিকতা এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়ে সোনাবাজুর কাচু খার স্ত্রী আরিফা বগেম-৩০ কে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরিফা হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে এবং অপর তিনজন প্রেমিকের হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা জানায়।

পুলিশ ওই তিনজনেকে গ্রেফতাকার করে। তারা হলেন সোনাবাজু গ্রামের ইমরুল প্রামাণিকের ছেল রশিদ প্রামাণিক (৩৮) একই গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জিহাদ আলী (৩২) এবং ইকোরি গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩৫)।

পুলিশ সুপার জানান, এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন আরিফা। সে পালাক্রমে নিহত মোবারকসহ ৪ জনের সাথেই অবৈধ মেলামেশা ও তাদের কাছে থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিত। মোবারক ঠিকমত আরিফাকে টাকা না দেওয়া এবং সে সহ অন্যদের সাথে আরিফার সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেয়।

এতে আরিফা ক্ষুদ্ধ হয় এবং অপর তিন প্রেমিককে নিয়ে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন মোবারক গরু চড়াতে গেলে আরিফা বেগম শাররীক মেলামেশার প্রলোভন দিয়ে মোবারককে পাট ক্ষেতে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোবারককে হত্যা করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করেতে থাকে।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ইতিমধ্যে আরিফা আসাদুল ও রসিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

কৃতজ্ঞতা: এম এম আরিফুল ইসলাম