নিজস্ব প্রতিবেদক: নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে সরবরাহকারী আখচাষিদের প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা এবং নাটোর সুগার মিলে প্রায় ২০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। আখ বিক্রির টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ আখচাষিরা দ্রুত টাকা পরিশোধের দাবি ও নানা অনিয়মের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বাগাতিপাড়া উপজেলায় মানববন্ধন করেছেন।

জানা গেছে, জেলার দুটি নাটোর সুগার মিল ও নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আখ বিক্রি করেও টাকা পাচ্ছেন না চাষিরা। ফলে আখ চাষিরা বেকায়দায় পড়েছেন। প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে চিনিকলে আখ বিক্রি করা হলেও সেই আখের মূল্য এখনো পাননি আখ চাষিরা। এ দুই চিনিকলে চাষিদের বকেয়া প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা।

সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের এই দুটি মিলের অধীনে এ অঞ্চলের আখচাষিদের আখ ক্রয় করা হয়। নাটোর সুগার মিলের ৮টি সাবজোনের মোট ৪৭টি কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার আখচাষি তাদের আখ বিক্রি করেন।

অন্যদিকে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে ৭টি সাবজোন-এর মাধ্যমে ৩৭টি কেন্দ্রে এবং মিলগেটে আখ ক্রয় করা হয়। এসব কেন্দ্রে প্রায় ১৮ হাজার আখচাষি তাদের আখ বিক্রি করেন। কিন্তু গত ডিসেম্বরের শুরুতে সবশেষ আখ বিক্রির টাকা পেলেও এরপর আর কোন টাকা পাননি চাষিরা। ফলে টাকার অভাবে অনেক চাষি তাদের চৈতালী আবাদ করতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আখ ক্রয় কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, আখ ক্রয় কেন্দ্রের পূজি অনুয়ায়ী সিআইসি আখ ক্রয় করেছেন। সে মোতাবেক বিলও দিয়েছেন। টাকা পরিশোধ করবে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল জানান, তার চিনিকলের অধীনে আখ ক্রয় বাবদ প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। চাষিদের এই বকেয়া অর্থ পরিশোধের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

অপরদিকে নাটোর সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, চাষিদের আখ বিক্রির টাকা না পাওয়ার দাবি যৌক্তিক। চিনিকলের উৎপাদিত চিনি সরকারের বর্তমান নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি না হওয়ায় আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। সে কারণে চাষিদের প্রায় ২০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। চিনি বিক্রি করে ও সরকারের সহযোগিতায় আর্থিক সংকুলানের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আর্থিক সংকুলান হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চাষিদের টাকা পরিশোধ করা হবে।