নিজস্ব প্রতিবেদক: বাগাতিপাড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলের আসবাবপত্রও ভাংচুর করা হয়েছে। এসময় ছবি তুলে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক আবুল কালামকে পিটিয়ে তার মোবাইল কেড়ে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।

সোমবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার তমালতলা এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের ভাই অহিদুর রহমান গকুল সমর্থকদের সাথে আবুল সমর্থকদের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ ভাংচুর ও মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগের সত্যতা স্বীকার করেনি।

দলীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বাছাই নিয়ে ভোটাভোটি সোমবার বিকেলে তমালতলা এলাকায় বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে শুরু হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার রহমান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের ছোট ভাই ওহিদুল ইসলাম গোকুলের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে সভা শুরুতেই আবুল হোসেন সমর্থকদের সাথে গকুল সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সভাস্থলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করে। দলীয় নেতাকর্মীদের গোপন ভোটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের পর সেকেন্দার রহমান প্রথম, আবুল হোসেন দ্বিতীয় ও এমপি বকুলের ভাই অহিদুল ইসলাম গকুল তৃতীয় হন। এই ফলাফল ঘোষণার পর পরই গকুল সমর্থকরা আবুল সমর্থকদের ওপর চড়াও হয় এবং অনুষ্ঠান স্থলের আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

এসময় অনুষ্ঠানস্থলের অদূরে রাখা আবুল গ্রুপের ছাত্রলীগকর্মী শ্রাবনের মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। পরে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় গকুল সমর্থকরা আবুল সমর্থক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শিপনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আবুল সমর্থক তমালতলা চকহরিপুর গ্রামের তুহিন, মেহেদি হাসান, শ্রাবন ও শিপন নামে চারজনকে আটক করে।

এদিকে ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুকুমার মুখার্জী বলেন, ‘ভোটাভুটি শেষে আগে-পরে বসা নিয়ে একটু উত্তেজনা হয়। তবে জেলা নেতারা বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন। কারও বাড়িতে হামলা ভাংচুর বা অগ্নিসংযোগের কোনও ঘটনা ঘটেনি।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, তার কর্মীরা কাউকে হামলা বা আক্রমণ করেনি বরং গকুল পরাজিত হলে তার কর্মীদের মারপিট করে মোটর সাইকেল পুড়িয়েছে। হামলা করে বাড়ি ভাংচুর করেছে আবার তার কর্মীদেরই পুলিশ আটক করেছে।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, সভায় জেলা ছাত্রলীগ নেতা শহিদুলকে আবুল সমর্থকরা লাঞ্ছিত করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় পরে সভাস্থলে তা মিমাংসা করে দেয়া হয়। সভা শেষে আবুল সমর্থকরা অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আক্রমনের চেষ্টা করলে সাধারণ কর্মিরা তাদের প্রতিহত করে মোটর সাইকেলে আগুন দেয়।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্ত্তোজা আলী বাবলু বলেন, সোমবার বিকেলে অনেক উৎসুক মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু হামলা বা ভাংচুরের মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি।’

জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ভোটাভুটি পরিচালনা করেন এবং ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। এসময় কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে তারা ফিরে আসার পর আগে ভোট দেয়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা হয়েছে বলে শুনেছেন, ভাংচুর বা অগ্নিসংযোগ নয়।

বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ৪ জন আটকের সত্যতা স্বীকার করে জানায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ভোটাভোটি নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা হয়েছে। কিন্তু কোনও ভাংচুর বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।