নিউজ ডেস্ক: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগে আরিফুল ইসলাম (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বাগাতিপাড়া থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হক।

রোববার (১২ জুলাই) অভিযুক্ত আরিফুলকে নাটোর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় আরিফুলকে আটক করা হয়। আরিফুল উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের সোনাপুর হিজলী কান্ডাপাড়া গ্রামের আবুবক্করের ছেলে। ভুক্তভোগী নারী পার্শ্ববর্তী রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর সাথে বাগাতিপাড়া উপজেলার আরিফুলের মুঠোফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে মুঠোফোনে আরিফুল ওই নারীকে বিয়ের কথা বলে তার বাড়িতে ডেকে এনে ধর্ষণ করেন। পরদিন শনিবার তাকে কাজী অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে উপজেলার পেড়াবাড়িয়া এলাকায় রেখে আরিফুল পালিয়ে যায়। এরপর তিনি বিয়ের দাবিতে প্রেমিক আরিফুলের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন। পরে শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী নারী বাগাতিপাড়া থানায় প্রেমিক আরিফুলকে অভিযুক্ত করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আরিফুলকে আটক করে বাগাতিপাড়া থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরিফুল এর আগেও দু’টি বিয়ে করেছেন এবং তার একটি সন্তানও রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আরিফুলের ডিভোর্স হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা দায়ের করে বাবার বাড়িতে রয়েছেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী নারীর একটি মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে তার স্বামী মারা গেছেন। এরপর মাসখানেক পূর্বে আরিফুল তাদের এলাকায় একটি কাজে গেলে দু’জনের মধ্যে পরিচয় হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হক জানান, রোববার সকালে আটককৃত আরিফুলকে নাটোর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া ভিকটিমকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নাটোর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।