নিউজ ডেস্ক: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর ধারণা নিজাম উদ্দিনকে, বৈদ্যুতিক তার জাতীয় কোনো কিছু দিয়ে গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মীর আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সন্দেহভাজনদের তালিকায় থাকা নিজাম উদ্দিনের স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মৃত নিজাম উদ্দিন(৬২) বাজিতপুর গ্রামের মৃত ফকির সরদারের ছেলে। এই হত্যায় সহায়তা করেছেন অভিযুক্তের দুই মেয়ে।

এদিকে নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী পিয়ারা বেগমের দাবি তার স্বামী ক্যান্সারের রুগী। বিকালে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের জন্য তাকে ডাকতে গেলে মৃত অবস্থায় পায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামে নিজাম উদ্দিনকে শনিবার দুপুরে তার স্ত্রী পাপিয়া বেগম ও তার দুই মেয়ে লীজা (২৫) ও লিপি (১৯) বাবার সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় তিনজন মিলে পিটিয়ে জখম করে ঘরে আটকিয়ে রাখে। পরে নিহত নিজাম উদ্দিনের মেয়ের জামাই রয়েল আলী কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে শ্বশুরকে না দেখে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে শ্বশুরের শোবার কক্ষে দরজা ভেঙ্গে দেখতে পায় শ্বশুরের মৃত দেহ চৌকির উপরে পড়ে আছে। পরে তার চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দেখতে পান মৃত নিজাম উদ্দিনের গলায় কালসিরা দাগ রয়েছে।

পরে পুলিশে খবর দিলে বাগাতিপাড়া থানা পুলিশ রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত নিজাম উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে বাগাতিপাড়া থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় দুই মেয়ে, স্ত্রী ও জামাইকে আলাদাভাবে জবানবন্দি রেকর্ড ও ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে নিজাম উদ্দিনের ভাতিজা মিঠুন আলীর অভিযোগ করেন, সম্পত্তি লিখে নেয়ার পর চাচাকে হত্যা করা হয়েছে। আর এজন্য তিনি তার চাচি পিয়ারা বেগম, চাচাতো বোন লিজা ও লিপি এবং ভগ্নিপতি রয়েলকে দায়ী করেছেন।

মিঠুনের দাবি করেন, তার চাচা নিজাম উদ্দিনের গলায় ও পায়ে আগাতের চিহ্ন ছিল। স্ত্রী মেয়ে ও জামাই নিজাম উদ্দিনকে নিয়মিত নির্যাতন করতো। নির্যাতন চালিয়ে তারা নিজাম উদ্দিনের সমস্ত জমি লিখে নেয়ার পর তাকে হত্যা করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোরে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি এবং স্পটে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।