নিজস্ব প্রতিবেদক: বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পবিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও ভূয়া ডিগ্রী ব্যবহারসহ নানারকম অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি নারীর প্রতি অমানবিক ও বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিকার চেয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন একই হাসপাতালের একজন মহিলা ডাক্তার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পবিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্টাফদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ, বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করে অর্থআত্মসাত, ভূয়া ডিগ্রী ব্যবহার, কর্মস্থলে না থেকে বাহিরে প্র্যাকটিস, সরকারি গাড়ি নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার, কর্মস্থলে আবাসিক ডাক্তার না থাকাসহ নানারকম অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকের দেয়ালে ব্যক্তিগত চিকিৎসার প্রচারণার স্টিকার লাগানো দেখতে পাওয়া গেছে। সেই স্টিকারে প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে আটটা ও বিকাল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখেন বলে লেখা রয়েছে। তাছাড়া ডা: আমিনুল ইসলাম শিশু রোগ ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ লিখেছেন যা তিনি লিখতে পারেন না বলেছেন খোদ সিভিল সার্জন ডা: আজিজুল ইসলাম।

এছাড়া তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি তিনি জেলা শহরের বাসা ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। তার পছন্দের ডাক্তারদের সুবিধামত ডিউটি দিলেও অন্যান্য স্টাফদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পবিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কর্মস্থলে থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বাস্থ্য ও পবিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজে কর্মস্থলে না থেকে নাটোর জেলা শহরের মাদরাসা মোড়ের পটুয়াপাড়ায় তার নিজস্ব বাসায় চেম্বার করা হয়েছে।

অন্যদিকে বছরের বিভিন্ন সময়ে মেডিকেল অফিসার, নার্স, স্বাস্থ্য সহকারী ও কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডারসহ রিসোর্স পার্সনদের নিয়ে বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম করা হয়। তবে বেশিরভাগ প্রোগ্রামেই রিসোর্স পার্সনদের রাখা হয় না। আবার অংশগ্রহণকারীদের জন্য যে মূল্যের স্টেশনারিজ, আপ্যায়ন ও সম্মানী বরাদ্দ থাকে, তা না দিয়ে স্বল্প মূল্যের সামগ্রী সরবরাহ করা হয়।

সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনে বিরুপ প্রভাব ও মাদক সচেতনতাসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনিং গ্রোগ্রামে প্রত্যক অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি করে ৪৫০ টাকা মূল্যের পেনড্রাইভ, ৪৫০ টাকা মূল্যের ব্যাগ, ৭৫ টাকা মূল্যের কলম, ১২০ টাকা মূল্যের প্যাড, ১০৫ টাকা মূল্যের মার্কার পেন্সিল ও ইরেজারসহ মোট স্টেশনারিজ বাবদ ১২০০ টাকা বরাদ্ধ থাকলেও একটি রেখা খাতা, একটি পাঁচ টাকা মূল্যের কলম ও একটি প্লাস্টিক ফাইল দিয়ে মাত্র ত্রিশ টাকায় তা সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া আপ্যায়নে ১৫০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তা করানো হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এব্যাপারে নাটোর জজকোর্টের আইনজীবি (বাগতিপাড়ার বারইপাড়া মহল্লার) হাসান সৈকত বলেন, তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগেও শুনেছি। তিনি যা করছেন তা আইন বিরোধী। এভাবে চলতে থাকলে নাগরিক অধিকার ক্ষুন্ন হবে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্রুততম সময়ে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করি।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পবিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, আমি ঠিকঠাকভাবেই দায়িত্ব পালন করছি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনানুযায়ী সকল কাজ সম্পাদন করা হয়।

অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু বলেন, ‘এটা দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ আবাসিক চিকিৎসক হাসপাতালে থাকেন না। তার দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’

সিভিল সার্জন (নাটোর) ডা: আজিজুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ শুনেছি। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শিশু রোগ ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ লেখার বিষয়টি আমি নিজেও তাকে নিষেধ করেছি।