দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিন দাউদপুর গ্রামের দছির উদ্দিনের প্রবাসীপুত্র শরিফ উদ্দিন বাড়ীর গেটের সামনে প্রাচীর নির্মাণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে শরিফের পরিবার। ছবি: মোঃ সামিউল আলম

বিশেষ প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকেরই সমাজে সুষ্ঠুভাবে বসবাসের অধিকার রয়েছে। বসবাসের ক্ষেত্রে বসতবাড়ির সামনে চলাচলের জন্য প্রয়োজন যাতায়াত ব্যবস্থার। যে কোন স্থানে নির্বিঘ্নে নিরাপদে বসবাস করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

কিন্তু দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার একটি পরিবার সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে বিভিন্ন জায়গায় অসহায়ের মতো ছুঁটে বেড়াচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিন দাউদপুর গ্রামের দছির উদ্দিনের প্রবাসীপুত্র শরিফ উদ্দিন প্রায় একযুগ পূর্বে কাটলা বাজারে তার ক্রয়কৃত জায়গায় পরিবার নিয়ে বসবাসের উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন।

কিন্তু বাড়ি নির্মাণের পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য রাস্তার সমস্যা দেখা দেয়। সে সময় বাড়ীর মালিক প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের নিকট থেকে উভয়ের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে ২০১৫ সালে তিনশত টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে লেখাপড়ার মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে রাস্তার দিক উল্লেখ সাপেক্ষে মোট সাড়ে ২৩ ফিট জায়গা নেন।

এরপর থেকে ওই রাস্তা দিয়েই শরিফের বাড়ীর লোকজন চলাচল করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে শরিফের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবনের কাজ শুরু হলে বাড়ির গেটের সামনে প্রাচীর নির্মিত হওয়ায় চলাচলের রাস্তাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে শরিফের পরিবার। বতর্মানে বাড়িতে ঢোকার বা বের হওয়ার মতো যাতায়াতের কোন রাস্তা নেই। এমতাবস্থায় শরিফ জীবিকার তাগিদে প্রবাসে অবস্থান করায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর তার বড় ভাই নাসির উদ্দিন চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করণ প্রসঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন করেছেন।

কিন্তু অদ্যাবধি রাস্তার বিষয়ে কোন সুরাহা না হওয়ায় ওই পরিবারের লোকজন বিভিন্ন দপ্তরে ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হয়েও পরিবারটি তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। কি করে ফিরে পাবে তাদের সেই অধিকার, এমন প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। অধিকার ফিরে পেতে এ ব্যাপারে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের দৃষ্টি কামনা করেন অসহায় পরিবারটি।

কৃতজ্ঞতা: মোঃ সামিউল আলম