নিউজ ডেস্ক: ‘বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের সংসদ সদস্য পদ কেন অবৈধ হবে না ও তাঁর আসন কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না’ তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ ও নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। একটি দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ায় জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে এই রুল জারি করা হয়।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী দেওয়ান মো. আবু ওবায়েদ হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জেসমিন সুলতানা সামশাদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সামীউল আলম সরকার।

জানা গেছে, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ এমপি হারুনসহ তিন জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক ইউনুস আলী। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, হারুন বিএনপি জোট সরকারের সময় এমপি থাকাকালে ২০০৫ সালে ব্রিটেন থেকে একটি হ্যামার ব্র্যান্ডের গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় ক্রয় করেন। গাড়িটি তিনি পরে ইশতিয়াক সাদেকের কাছে ৯৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর সাদেক গাড়িটি চ্যানেল নাইনের এমডি এনায়েতুর রহমান বাপ্পীর কাছে বিক্রি করেন।

নিয়ম অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু এমপি হারুন শুল্ক না দিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। তাই ওই মামলায় ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এমপি হারুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলার পলাতক আসামি চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনায়েতুর রহমান বাপ্পীকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর পলাতক আসামি ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় এমপি হারুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন হারুন অর রশীদ। হারুন অর রশীদের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের একক বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের আবেদনের আপিল বিভাগ তা বহাল রাখার পর হারুন অর রশীদ মুক্তি পান।