নিউজ ডেস্ক: দিনাজপুরের বিরামপুরে আশা এনজিও’র তিন মাসের কিস্তি বকেয়া পড়ার মামলায় এক অসহায় নারীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছেন পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ঋণ গ্রহীতা নারীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিরামপুর থানা মাছুরা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। ভুক্তভোগী নারী দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর এলাকার কৃষ্টচাঁদপুর গ্রামের মৃত রহমানের স্ত্রী মাছুমা বেগম (৪২)।

মামলা ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর এলাকার কৃষ্টচাঁদপুর গ্রামের মৃত রহমানের স্ত্রী মাছুমা বেগম (৪২) বিরামপুরের আশা নামক এনজিও অফিস থেকে গত ২৭/০৯/২০১৮ইং তারিখে ১ বছর মেয়াদে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সুদসহ ঋণের টাকা কিস্তি আকারে পরিশোধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ২৭/০৯/২০১৯ইং সালে তার ঋণের মেয়াদ ১ বছর শেষ হয়। মেয়াদ কাল শেষ হওয়া পর্যন্ত ঋণ গ্রহীতার ৩৬ হাজার ৯ শত ৭৩ টাকা খেলাপী পড়ে। স্বামীর অসুস্থতায় দারিদ্রতার রোষানলে খেলাপী টাকা পরিশোধ করতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েন ভুক্তভোগী নারী।

কিন্তু মেয়াদ শেষে বকেয়া প্রদানে তিন মাস যেতে না যেতেই সেই আশা এনজিও গত ১৬/০১/২০২০ইং তারিখে ঋণ গ্রহীতা মাছুরা বেগমের নামে আদালতে মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং ১২৩সি/২০২০। এরই প্রেক্ষিতে চলতি বছরে চলমান করোনা ক্রান্তিকালের মধ্যে ঋণ গ্রহীতার নামে আদালত হইতে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। পরে বিরামপুর থানা মাছুরা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।

এ ব্যাপারে বিরামপুর আশা এনজিও অফিসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মশফিকুর রহমান এবং আঞ্চলিক ম্যানেজার আনিসুর রহমানের সাথে আলাপকালে দায়সারাভাবে তারা সাংবাদিকদের জানান আমরা বুঝতেই পারিনি যে, মাছুরা বেগমের নামে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে!

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন, এখন জানতে পারলাম, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি বলেও জানান তিনি।