নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ভাটেরখীল গ্রামের প্রেমিক রাজমিস্ত্রি আবুল কাশেমের ছেলে নয়ন (২২) তার প্রেমিকা মিরসরাইয়ের তরুণী (১৮) কে বেড়ানোর কথা বলে হোটেলে নিয়ে গিয়ে দুইদিন ধরে আটকে রেখে ছয় বন্ধু মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়া ভুক্তভোগী তরুণী থানায় গিয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ হোটেল ম্যানেজার ও প্রেমিকসহ ছয় অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে। এদিকে বিকালে ধর্ষণের শিকার তরুণী মামলা দায়ের করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো প্রেমিক নয়ন (২২), তার বন্ধু সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল গ্রামের মো. নুর নবীর ছেলে মোহাম্মদ আলীম হোসেন (২২), গুলিয়াখালী খালিদ মেম্বারের বাড়ির মোহাম্মদ জামাল উল্লাহ মোহাম্মদ রিফাত (১৯), দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে মোহাম্মদ ইমন ইসলাম (২০), একই এলাকার নেছার আহমেদের ছেলে রণি (২০), জসিম উদ্দিনের ছেলে বারেক (২২) এবং জলসা হোটেলের মালিক আবুল কালামের ছেলে (ম্যানেজার) পৌরসদর দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামের নুর উদ্দিন (৩৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ভাটেরখীল গ্রামের রাজমিস্ত্রি আবুল কাশেমের ছেলে নয়নের (২২) সঙ্গে এক মাস আগে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিচয় হয় মিরসরাইয়ের এক স্বামী পরিত্যক্তা তরুণীর (১৮)। সম্প্রতি ওই তরুণীকে নিয়ে বেড়ানোর প্রস্তাব দেয় প্রেমিক নয়ন।

প্রস্তাবে সম্মত হয়ে গত শনিবার তরুণী সীতাকুণ্ডে এসে উপস্থিত হলে প্রেমিক নয়ন ও তার বন্ধুরা তাকে গুলিয়াখালী সিবিচসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাতে পৌরসদর ডিটি রোডের মো. আবুল কালামের মালিকানাধীন জলসা হোটেলে নিয়ে যায়।

এরপর থেকে গত দুইদিন প্রেমিক নয়ন ও তার ৫ বন্ধু তাকে টানা ধর্ষণ করতে থাকে। এতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে সোমবার সকালে থানায় গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে জলসা হোটেলে অভিযান চালিয়ে ম্যানেজার ও প্রেমিক নয়নসহ ছয় অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, ধর্ষণের শিকার তরুণী স্বামী পরিত্যক্তা। এক মাস আগে নয়নের সঙ্গে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে তার সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা হয়। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে এসে জলসা আবাসিক হোটেলে ছয় বন্ধু মিলে দুই দিন ধরে গণধর্ষণ করে।

এদিকে, স্থানীয়রা বলেন, সীতাকুণ্ড পৌরসদরে সাত থেকে আটটি অবৈধ আবাসিক হোটেল রয়েছে। অনুমোদনবিহীন ওই হোটেলগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই পর্যটকের নামে প্রেমিক-প্রেমিকা ও বিভিন্ন সম্পর্কের নারী-পুরুষ এসে ধর্ষণ বা দেহ ব্যবসার মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ এসবের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালাচ্ছে না।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, এতোদিন প্রমাণ না পাওয়ায় আমরা এ নিয়ে মাথা ঘামাইনি। এখন শিগগিরই অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি।