নিজস্ব প্রতিবেদক: বড়াইগ্রামের গৃহবধু শরিফা খাতুন তার বাবা-মা ও কবিরাজসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার রোকনপুর গ্রামে শফিকুল ইসলামের মেয়ে ও পারখিদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। এছাড়া সে বড়াইগ্রাম উপজেলার দায়েরকোল গ্রামের রিপন (২৮) এর স্ত্রী।

জানা গেছে, পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করায় তাকে পাগল সাজিয়ে নির্যাতন করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বাবা শফিকুল ইসলাম ও কবিরাজ আ. সালামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ এপ্রিল) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আটঘরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শরিফা খাতুনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১১ মার্চ বড়াইগ্রাম উপজেলার দায়েরকোল গ্রামের রিপন (২৮) এর সাথে বিয়ে দেয় বাবা মা। স্বামীর সাথে তার বনিবনা না হওয়ায় শরিফা কিছুদিন পর বাবার বাড়ি চলে আসে। এরপর ২৩ এপ্রিল তাদের গ্রামের সোহান নামের এক ছেলেকে বিয়ে করে। পরে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে পাবনার টেবুনিয়া বাজার থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। পরে শরিফাকে বাড়ি নিয়ে তার অভিভাবকরা তাকে পাগল সাজিয়ে লোহার শিকলে হাত-পা বেঁধে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এসময়ে একই গ্রামের আ. সালাম নামের এক কবিরাজ চিকিৎসার নামে তাকে নির্যাতন করে। কবিরাজ তার নখে সুঁচও ঢুকিয়ে দেয়। এতে শরিফা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এব্যাপারে আটঘরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হক বলেন, ফরিফা খাতুনকে নির্যাতনের অভিযোগে বাবা-মা, চাচা ও এক কবিরাজসহ ৬ জনের নামে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।