নিউজ ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সন্তান ও সেঞ্চুরি এগ্রো লিমিটেড নামে একটি ভেটেরেনারি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি নাইমুর রহমান শোভনকে নরসিংদীতে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আদরের সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা।

মঙ্গলবার সকালে (১২ জানুয়ারি) ময়না তদন্ত শেষে নাইমুরের গ্রামে বাড়িতে জানাজা শেষে লাশ দাফন করা হয়। এর আগে সোমবার ভোরে নরসিংদী জেলার ভেলানগর এলাকায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসির ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারায় নাইমুর। নাইমুর রহমান শুভ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার তারানগর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, দুই ভায়ের মধ্যে ছোট নাইমুর। বড় ভাই বিয়ে করে পৃথক সংসার গড়েছেন। নাটোর এনএস সরকারী কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে। এর মধ্যে বাবা আবু বকর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসা আর সংসারের খরচ যোগানোর ভার পড়ে তার কাঁধে।

তাই অসুস্থ বাবাকে সুস্থ করতে সেঞ্চুরি এগ্রো লিমিটেড নামে একটি ভেটেরেনারি ওষুধ কোম্পানিতে বিক্রয় প্রতিনিধির চাকুরী নেন নাইমুর। তার পোস্টিং ছিল নরসিংদী জেলায়।

নাইমুরের স্বজন সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী শহরের ভেলানগর এলাকার ঢাকা বাসস্ট্যান্ডের পেছনে একটি মেসে ভাড়া থাকতেন নাইমুর। শনিবার দুই দিনের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে নরসিংদী যান। এ সময় আশিক নামে এক বন্ধুও তার সঙ্গে যায়। সোমবার ভোরে বন্ধুকে ঢাকা যাওয়ার ট্রেনে তুলে দিয়ে মোটরসাইকেলে মেসে ফিরছিলেন। পথে চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পৌঁছালে দূর্বৃত্তর এলোপাথারি ছুরিকাঘাতে মারা যায় নাইমুর।

চাচাতো ভাই বিপ্লব জানান, নাইমুরের বুক, হাতসহ শরীরের পাঁচ জায়গায় ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। লাশের পাশেই তার মোটরসাইকেলটি পড়ে ছিল। টাকা-পয়সা, মোবাইল সবই আছে, শুধু ভাই নেই। কী কারণে কারা তাকে হত্যা করেছে কিছুই বুঝতে পারছি না।

মঙ্গলবার সকালে নাইমুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা নিথর দেহ নিয়ে শুয়ে। মায়ের ও স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে আসছে। নাইমুরের বৃদ্ধা দাদি টুলু বেওয়া বুক চাপড়ে বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার নাতি খুবই ভালো ছেলে। লেখাপড়া শেষ না হতেই চাকরি নিয়েছিল আমাদের জন্য। কিন্তু কারা আমার বুকের মানিককে কেড়ে নিল, এ বিচার কার কাছে চাইব।

নিহতের মা ইতি বেগম কান্নারত অবস্থায়ই বিলাপ করে বলেন, আমি চাইনি ছেলে এখনই এতদূরে গিয়ে চাকরি করুক, কিন্তু বাবা অসুস্থ। সংসারের কথা ভেবে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাকরিতে গিয়েছে। কাজের ব্যাঘাত ঘটে বলে এবার এসে মোটরসাইকেল নিয়ে গেল। কিন্তু এভাবে খুনিরা আমার বুক খালি করে দিল, এখন আমাদের কী হবে?

নরসিংদী মডেল থানার ওসি বিপ্লব কুমার চৌধুরী মোবাইলে জানান, হত্যাকান্ডটি ভোররাতে ঘটেছে। মোটরসাইকেলসহ সবই আছে, তাই রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।