নিজস্ব প্রতিবেদক: বড়াইগ্রাম এনার্জি ড্রিংকসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে নার্গিস বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শামিম হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে নিহত গৃহবধূর স্বামী শামিম হোসেন পলাতক রয়েছেন। বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সকালে বাবার বাড়ি উপজেলার কুজাইল গ্রামে নার্গিস বেগমের মৃত্যু হয়। নার্গিস ওই গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে এবং পার্শ্ববর্তী মনপিড়িত গ্রামের শামিম হোসেনের স্ত্রী।

নার্গিসের বাবা মায়ের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে তাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। গত তিন দিন আগে শ্বশুরবাড়িতে থাকা অবস্থায় তার মেয়েকে মারপিটসহ শারীরিক নির্যাতন করেছে জামাই। সেখান থেকে মেয়ে তাদের বাড়িতে চলে আসে।

তারা আরো জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামাই শামিম তাদের বাড়িতে আসে। রাতে এনর্জি ড্রিংকসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মেয়েকে খাইয়ে দিয়ে তার বাড়িতে চলে যায়। বিষক্রিয়ায় সকালে মেয়ে নার্গিসের মৃত্যু হয়।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী শামিম হোসেন স্ত্রী নার্গিসকে এনার্জি ড্রিংকস খাইয়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায়। এরপর থেকে নার্গিসের বুকে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এ অবস্থায় রাতেই স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। সকালের দিকে তার মৃত্যু হয়।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের পর আসল কারণ জানা যাবে।

তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নার্গিসের মৃত্যু রহস্যজনক, তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।