নিউজ ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার গুনাইহাটি এলাকায় দায়েরকৃত মামলায় কারাগার থেকে জামিনে এসে দাদী শেফালী দাস (৫৫) ও নাতনী স্মৃতি দাসকে (১২) এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। নাতনী স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। দাদী নাতনীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার দাস, বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) হারুন-অর-রশিদ, বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার দাস, বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুনাইহাটি গ্রামের মৃত খোকা দাসের ছেলে অনিল কুমার দাস (৩৫) ও মৃত জফির উদ্দিনের ছেলে আয়ুব আলীর (২৩) নামে থানায় অভিযোগ করেছেন দাদী শেফালী দাস।

থানায় অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে শেফালী দাসের মেয়ে উমা দাসকে উত্যক্ত করায় অনিল কুমারের নামে মামলা হয়। সেই মামলায় কারাগার থেকে সম্প্রতি ছাড়া পেয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছিল। এর মধ্যে গত সোমবার রাতে দাদী নাতনী একখাটে অপর খাটে উমা দাস ঘুমিয়েছিলেন। রাত তিন টার দিকে জানালা দিয়ে কারা কি যেন ছুঁড়ে মারে। এতে দাদী ও নাতনীর শরীরের পা, পিঠসহ অনেক অংশ পুড়ে যায়। শরীরে জ্বালা যন্ত্রণা শুরু হলে চিৎকার দিলে প্রতিবেশিরা আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে বনপাড়ায় এক ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করেন।

অভিযুক্ত অনিল কুমার বলেন, এসিডের ঘটনায় আমি কিছু জানি না। উমা দাস আমার ভাতিজি হয়। কারাগার থেকে ফিরে এসে তার সাথে কথা বলি না। এর আগে একবার তাকে শাসন করতে গিয়ে উল্টো বিপদে পড়েছি।

স্থানীয় কাউন্সিলর জিয়াউল হক বলেন, আমি ঘটনা শুনার পরে থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।

মামলার বাদী শেফালী দাস বলেন, অনিল আমাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছিল। তাই সন্দেহ করছি ওরাই এ ঘটানা ঘটিয়েছে।

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক দিলীপ কুমার দাস বলেন, অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করা হয়েছে।