নিজস্ব প্রতিবেদক: বড়াইগ্রামে এক আত্মীয়কে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা নাম-মাত্র জরিমানায় ধামাচাপা দেয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (০২ মার্চ) গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে এই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সে জরিমানার টাকা হাতে পাননি গৃহবধু ও তার স্বামী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি গোপালপুর ইউনিয়নের রাজাপুর পরাণপুর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সেলিম হোসেন তার এক আত্মীয়কে (৩৫) ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু ওই মহিলার ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে লম্পট সেলিম পালিয়ে যায়। পরদিন ঐ মহিলা ক্ষোভে-লজ্জায় কীটনাশক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্বজনেরা তাকে দ্রুত রাজাপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে কয়েকদিনের চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

শনিবার (০২ মার্চ) এই ঘটনায় গোপালপুর ইউপি কার্যালয়ে সালিশ বসে। সেখানে চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খানসহ গ্রাম্য প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সেলিমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে সালিশ শেষ করেন। সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এব্যাপারে রোববার ওই মহিলার এ পর্যন্ত কোনো টাকা হাতে পাননি বলে জানান। অভিযুক্ত সেলিম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছোট ভাই বিপ্লব জানান, একটা ঘটনা ঘটেছিল, সেটা পরিষদে বসে মিটমাট করা হয়েছে।

গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান জানান, তারা পরস্পর আত্নীয়। একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল, মীমাংসা করে দিয়েছি। আর মেয়েটির চিকিৎসা বাবদ কিছু খরচ হয়েছে, সেটা ছেলেপক্ষকে দিতে বলা হয়েছে।