নিজস্ব প্রতিবেদক: বড়াইগ্রামে রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে ডাব্লু বিএম কাজে খোয়ার স্থলে আদলা ইট ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাটোরের নটাবাড়িয়ার সাথী এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জিওবি’র অর্থে রাস্তা সংস্কারের জন্য বড়াইগ্রাম উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের ইদিলপুর বাজার হতে জালশুকা খোলার ভাটা পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০০ মিটার পুরাতন সড়ক সংস্কারের জন্য ৭৮ লাখ ৭০ হাজর ৪৫৬ টাকা ব্যয় বরাদ্দে টেন্ডার আহবান করা হয়। এতে কাজটি পায় নাটোরের নটাবাড়িয়ার সাথী এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজ নিয়ে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে আজও কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়।

ওই কাজটি ৩৮ থেকে ৫০এমএম খোয়া দ্বারা ডাব্লুবিএমের কাজ করার পর ২৫ এমএম কার্পেটিং করার কথা। এজিং এর সমস্যা থাকলে সেখানে নতুন ইট দিয়ে রি-সেটিং করতে হবে। গ্রেটারের মাধ্যমে চাষ দিয়ে আলগা করে ড্রেসিং লেভেলিং করে রোলার করার কথা রয়েছে। কিছু জায়গায় অতিরিক্ত খোয়া ব্যবহার হওয়ার কথা। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে সেখানে দেখা গেছে ৩৮ এমএম থেকে ৫০ এমএম খোয়ার স্থলে কোথাও কোথাও আদলা ইট এমনকি থ্রি-কোয়াটার ইট বিছিয়ে রোলার দিয়ে কমপেকশন করা হয়েছে।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয় নিশ্চিন্তপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, নাজিম উদ্দিন মোল্লাসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, পুরাতন কার্পেটিং আলগা করে রোলার দিয়ে সমান করা হচ্ছে। রাস্তার প্রসস্থ্যতা কমানো হচ্ছে। কিছু জায়গায় এজিং এর জন্য অত্যন্ত নিন্মমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি কিছু কিছু জায়গায় এজিং এর কিছু পুরাতন ইট তুলে রাস্তায় দিয়ে রোলার করা হচ্ছে।

ক্ষোভে-দুঃখে নাজিম মোল্লা বলেন, ৭৫ বছর বয়সে দেখাতো দুরের কথা শুনিনি যে খোয়া না দিয়ে গোটা ইট রাস্তায় দিয়ে রুলার দিয়ে সমান করে কার্পেটিং করা হয়। যুগে যুগে আর কত কি দেখবো বাপু।

এছাড়াও সকেদা বেগম, নয়ন, জহুরুলসহ অন্ততঃ দশজন জানান, আগের পুরাতন রাস্তা থেকে প্রস্ততা বৃদ্ধি না করে বরং তা থেকে একফুট কমানো হচ্ছে।

এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাথী এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মাসুদ মোবাইল ফোনে কিছু জায়গায় খোয়ার সাথে আদলা ইট ব্যবহার করার কথা স্বীকার করেন। ওই ব্যবহৃত ইট গুলো তুলে ভেঙ্গে ছোট করা হবে।

তিনি প্রবীণ ঠিকাদার হাজী আনিসের ছেলে দাবি করে আরো বলেন, রাস্তা ভাল হবে। তাদের কোন কাজই খারাপ হয় না। এমনকি ভবিষ্যতে হবে না।

বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিবের অফিসে গিয়ে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, পুরাতন রাস্তা সংস্কারের কাজ। একটু-আধটু খারাপ হতে পারে। তবে খোয়ার পরিবর্তে ইট ব্যবহার করার কথা নয়। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।