নিউজ ডেস্ক: ১৬ বছর বয়সী নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম নামে ভন্ড সাধককে ২৫ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার তথ্য জানান সিআইডির ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম। এর আগে মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার বসন্তপুর বাগডাংগীর দূর্গম পদ্মা চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শরিফুলের গ্রামের বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রামে।

সিআইডির ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম জানান, সিআইডির এলআইসির একটি চৌকস দল মানিকগঞ্জ জেলা সিআইডির সহায়তায় গতকাল মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত শরিফুল মেয়েকে নিয়মিত ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

তিনি আরো জানান, শরিফুলের বিরুদ্ধে একই থানায় ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা- ২২ (গ)(নং-২৫) মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি শরিফুলকে নাটোর জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে ভন্ড শরিফুল সাধক সন্ন্যাসীর বেশ ধারণ করলে দুই বছর আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এ সময় তার মেয়ে নাটোরের দিঘাপাতিয়া পূর্ব হাগুরিয়া গ্রামে তার নানার বাড়িতে চলে যায়। গত ঈদুল আজহার ৬ দিন পূর্বে বিভিন্ন কৌশলে মেয়েকে নাটোরের বড়াইগ্রামে তার বাড়িতে নিয়ে আসে শরিফুল। বাড়িতে আনার পর থেকে সে মেয়েটির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে।

একপর্যায়ে মেয়েকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও আটক রেখে ধর্ষণ করে। নির্যাতনের পর মেয়ে তার দাদা-দাদীকে ঘটনা খুলে বলে। কিন্তু দাদা-দাদী মেয়েটি বলে, এই ঘটনা কাউকে না বলার জন্য। সে সময় বাড়িতে কোনো লোকজন এলে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে বা কথা বলতে দেওয়া হতো না। তবে এক পর্যায়ে মেয়েটি তার নানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ হয়। পরে মা ও নানি মেয়েটিকে উদ্ধার করে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর অভিযুক্ত ‘ভন্ড সন্ন্যাসী’ বাবা শরিফুল ইসলাম আত্মগোপন করেছিল।