বিনোদন প্রতিবেদক: সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল শিল্পী সমিতির নির্বাচনে মৌসুমীর জয়ের খবর। সেই খবরকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদে বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌসুমীকে হারিয়ে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মিশা সওদাগর। আর সাধারণ সম্পাদক পদে ফের নির্বাচিত হয়েছেন জায়েদ খান।

সভাপতি পদে মিশা পেয়েছেন ২২৭ ভোট ও মৌসুমী পেয়েছেন ১২৫ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খান পেয়েছেন ২৮৪ ভোট ও ইলিয়াস কোবরা পেয়েছেন ৬৮ ভোট। নির্বাচিত হওয়ার পর নবনির্বাচিত সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান শিল্পী সমিতির সব ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে অনেক প্রতীক্ষার পর সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন। এর আগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ভোটের আগ থেকে উত্তাপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোট হয়েছে সুষ্ঠুভাবেই।

যারা নির্বাচিত হয়েছেন, সভাপতি: মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক: জায়েদ খান, সহ-সভাপতি: ডিপজল ও রুবেল, সহসাধারণ সম্পাদক: আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক: সুব্রত, আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক: ইমন, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক: জ্যাকি আলমগীর, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক: জাকির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ: ফরহাদ, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য: অঞ্জনা সুলতানা, অরুণা বিশ্বাস, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, আসিফ ইকবাল, আলেকজান্ডার বো, জেসমিন, জয় চৌধুরী, নাসরিন, বাপ্পারাজ, মারুফ আকিব ও রোজিনা।

এবার ২১টি পদের বিপরীতে ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। মোট ভোটার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৮৬জন। এ ছাড়া সুব্রত, জ্যাকি, আলমগীর ও ফরহাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

pratidinbd.com

শিল্পী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। আর নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ছিলেন পীরজাদা শহিদুল হারুন ও বিএইচ নিশান। আপিল বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে আলম খান, সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সোহানুর রহমান সোহান ও রশিদুল আমিন হলি।

নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ মোতায়েন করে এফডিসিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শুধু ভোটার, সাংবাদিক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের এফডিসির গেট দিয়ে ঢুকতে দেয়া হয়। ভোটাররা এফডিসির গেটে পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দিতে প্রবেশ করেন। বিশেষ পরিচয়পত্র নিয়ে সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করেন।

নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে কেউ আপিল করতে চাইলে নির্বাচনী আপিল বোর্ডের কাছে আপিল ফি (২০০০ টাকা) জমা দিয়ে আপিল করতে পারবেন। আপিল দাখিলের শেষ তারিখ ২৭ অক্টোবর। নির্বাচনী আপিল বোর্ডের আপত্তির শুনানি ও নিষ্পত্তির তারিখ ২৯ অক্টোবর। নির্বাচনী চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে বিদায়ী পরিষদ নবনির্বাচিত পরিষদকে দায়িত্ব অর্পণ করবেন।